মাদারীপুরে শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সী হত্যার জের ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর থেকে ৩ ঘণ্টাব্যাপী মাদারীপুর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ড নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রসহ নূর ইসলাম হাওলাদার নামে একজনকে আটক কর পুলিশ।
বর্তমানে একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাদারীপুর পৌরসভা ২নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার। অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন মাদারীপুর উপজেলা শ্রমিক দল নেতা হাছান মুন্সী। তিনি সদর উপজেলা শ্রমিক দলের একাংশের সভাপতি নিহত শাকিল মুন্সীর আপন ভাই।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে শাকিলকে কুপিয়ে হত্যা করে লিটনের লোকজন। এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা হলে আক্তার হাওলাদারসহ কয়েকজন কারাবাস ভোগ করে শেষে জামিনে আসেন। এরই জের ধরে শনিবার ভোরে আক্তার পক্ষের লোকজন শ্রমিক দলের নেতা হান্নান ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আক্তার হাওলাদার ও নিহত শাকিলের ভাই হাছান মুন্সীর নেতৃত্বে দুইপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ও শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় সংঘর্ষকারীরা। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে উভয়পক্ষে ১০ জন আহত হন এবং এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) জাহাঙ্গীর আলম জানান, স্থানীয় দুপক্ষের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ছোটখাটো ঘটনা ঘটে আসছিল। শনিবার তা চরম আকার ধারণ করে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় একজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
