জামায়াতের ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে যুবশক্তি-নারী-প্রবাসীরা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৭ এএম

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচনের ১০-১২ দিন আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হতে পারে। ইশতেহারে যুবশক্তি, নারী, কৃষক, শ্রমিক ও প্রবাসীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে কর্মমুখী করে বেকারত্ব দূরীকরণের সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া সংখ্যালঘুদের অধিকার ও বেকারত্ব সমাধানে থাকবে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা।

দলের নেতারা বলছেন, সার্টিফিকেটধারী বেকার যুবসমাজ তৈরি করতে চায় না জামায়াত। তাদের অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনে সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে তৈরি করা এ ইশতেহার মানুষের মুক্তির সনদ হতে পারে। এর আগে সাধারণ ভোটারদের মতামত ইশতেহারে যুক্ত করতে ওয়েবসাইট চালু করে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় অংশীদার হতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

দেশ-বিদেশে থাকা ৩০ জন বিশেষজ্ঞ ইশতেহারের খসড়া তৈরি করেছেন। সেটি দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এরই মধ্যে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ইশতেহারের বিষয়বস্তু পাস করা হয়েছে। শেষ মূহূর্তে ভাষাগত কিছু সংশোধন করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পলিসিটি সামিট ২০২৬ আয়োজন করা হয়। যেখানে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র কাঠামো পরিচালনা পদ্ধতি এবং দেশের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ইশতেহারে মন্ত্রণালয়ের খাতগুলো ধরে বাস্তবভিত্তিক ৪১টি বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আরও অনেক উপধারা রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ১ বা ২ তারিখে সংবাদ সম্মেলন করে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হতে পারে।

ইশতেহারে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, নারীর ক্ষমতায়ন, বাকস্বাধীনতা, মানসম্মত শিক্ষা, টেকসই গণতন্ত্র ও কল্যাণ রাষ্ট্র নিশ্চিতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। নাগরিকরা গুরুত্বপূর্ণ সেবা যাতে এক কার্ডের মাধ্যমে পায়, সেজন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করছে দলটি। এজন্য স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালু করবে। যেখানে এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সব ধরনের সেবা এক কার্ডে পাওয়া যাবে।

দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে জামায়াত। তাছাড়া ঢাকা এবং বিভাগীয় শহরের ওপর চাপ কমাতে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করবে। শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক, শিক্ষকদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে দেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে দলটি।

দলটির নেতারা বলছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতকে নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর বিপরীতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে না বলে এক ধরনের ‘গুজব’ ছাড়ানো হচ্ছে। পলিসি এবং ইশতেহার প্রকাশের পর মানুষের কাছে এমন গুজব আর পাত্তা পাবে না বলে ধরাণা করছেন তারা।

তাদের ভাষ্য, দেশের উন্নয়নের জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন নেই। এজন্য দুর্নীতি বন্ধ করে নিজেরদের শক্তি-সামর্থ্য পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলেই দেশের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ইশতেহারে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. হাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইশতেহারে মানবিক ও ইনসাফের বাংলাদেশে গড়তে জামায়াত ঐক্যকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে। বিশেষ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নারীদের অধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে। তারুণ্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়তে এ ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে।

ইশতেহার তৈরির পাশাপাশি বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার গঠনের পর প্রথম একশ দিনে কী করা হবে তাও উল্লেখ থাকবে ইশতেহারে। এ ছাড়া বছরভিত্তিক এবং পাঁচ বছরে কী কী করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কারের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা গণভোটে পাস বা বাতিল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সেটি সংবিধানে যুক্ত হবে। জামায়াত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ তথা সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে এবং জামায়াত সরকার গঠন করতে পারলে সেগুলো সংবিধানে যুক্ত হবে এবং বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।

শিক্ষাব্যবস্থা : দেশের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী ও আধুনিক করতে চায় জামায়াত। উন্নত জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমন্বয়ের সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। দেশে যাতে কোনো শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়, সেজন্য নেওয়া হবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি গড়ে তোলা, দেশে উন্নত গবেষণাগার তৈরি, জনগণকে ইসলামি ও বিজ্ঞানমনস্ক করার নানা পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে।

পলিসি পেপারে এ নিয়ে জামায়াত বলছে, গ্র্যাজুয়েশন শেষে চাকরি পাওয়া পর্যন্ত সময়ে পাঁচ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছরমেয়াদি মাসিক সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান করা হবে। মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এক লাখ শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদান করা হবে। গরিবের মেধাবী সন্তানও যেন হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজে পড়তে পারে। ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বড় কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। সব নিয়োগ হবে মেধাভিত্তিক।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান : দলটির নেতারা বলছেন, বেকার ভাতা দেওয়ার চেয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। তাতে সবার সম্মান ও দেশের অর্থনীতি উন্নত হয়। এজন্য কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার, নতুন নতুন কলকারখানা তৈরি, ব্যাংকব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোসহ থাকবে নানা পরিকল্পনা।

দক্ষ জনশক্তি ও জব প্লেসমেন্টের জন্য নতুন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার চিন্তা করছে দলটি। পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন, প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ জব একসেস নিশ্চিত করতে চায় জামায়াত। স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযোগী স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের।

দুর্নীতি দমন : নেতারা বলছেন, দেশের সম্পদের কোনো অভাব নেই, কিন্তু তার সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। দুর্নীতির কারণে অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে। দেশ থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, তা দেশে থাকলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কমে যাবে মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া দুর্নীতি না থাকলে দেশের সর্বত্র সুশাসন কায়েম হবে। এতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে।

অর্থনীতি : দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জামায়াত। বিশেষ করে ব্যাংকের সুষ্ঠু পরিচালনা, অর্থ পাচার এবং ঘুষ-দুর্নীতি রোধ, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি, জাকাতভিত্তিক অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে তাদের। বিশেষ করে ব্যবসায় ও কৃষিবান্ধব অর্থনীতির পাশাপাশি রেমিট্যান্স, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্যাক্স ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) বর্তমান হার থেকে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্স ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করার পরিকল্পনা করছে দলটি। দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করা হবে।

নির্বাচিত হওয়ার প্রথম তিন বছরে শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি থাকবে ইশতেহারে। বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে চালু এবং ১০ শতাংশ মালিকানা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ রাখার কথা থাকছে ইশতেহারে।

সংস্কৃতি : জামায়াত নেতারা বলছেন, দল ক্ষমতায় গেলে দেশের সংস্কৃতি জগতের লোক বেকার হয়ে যাবে এবং নাটক-সিনেমা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে এক ধরনের অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের সংস্কৃতি জগৎ আরও সমৃদ্ধশালী ও রুচিসম্মত হবে। যার যার যে অবস্থান আছে, সেখানে তারা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করতে পারবে। সিনেমা-নাটক, বিনোদন সবই থাকবে। ইশতেহারে এ বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা থাকবে।

সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরুর ধারণা বাদ দিতে চায় : দলটির নেতাদের ভাষ্য, দেশে কোনো সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নেই। সব নাগরিক দেশে সমান নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে। জামায়াত বিজয়ী হলে দেশে কেউ সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নির্যাতিত হবে না। ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ করে থাকলে সেটা মুসলিম-হিন্দু-খ্রিস্টান সবার ক্ষেত্রেই আইন একই গতিতে চলবে। জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলে ধরবে।

স্বাস্থ্যসেবা খাত : জামায়াত নেতাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল, ক্লিনিক স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ অবদান রাখছে। ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্য খাতকে রোগীবান্ধব করার উদ্যোগ, দুর্নীতিমুক্ত করা, সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসহ নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলছে দলটি। বিশেষ করে ঢাকার ওপর চাপ কামাতে ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা বেশ জোর দিয়ে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভধারণ থেকে শুরু করে শিশুর বয়স দুই বছর বয়স পর্যন্ত মা ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

আইসিটি ভিশন : জামায়াত তাদের ইশতেহারে আইসিটি সেক্টর উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি জব সৃষ্টি ও প্লেসমেন্ট, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন এবং আইসিটি সেক্টর থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় করার লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে দলটি। তাছাড়া আইসিটি খাতে সরকারের ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় সাশ্রয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে।

নারী শিক্ষা ও কর্ম : বর্তমানে জামায়াতের যারা রাজনীতি করছেন, তার অর্ধেকই নারী এবং শিক্ষিত। জামায়াতের মহিলা শাখা রয়েছে। ছাত্রীদেরও একটি সংগঠন রয়েছে, যেখানে মেয়েরা নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া নারী নেত্রীরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। রয়েছেন চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার। ফলে জামায়াত কখনো নারীদের উন্নয়নে বাধা নয়, বরং সহায়ক হবে। এজন্য নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে। কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার বিষয়ে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী শিক্ষার প্রসারে বিশ্বের বৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জামায়াত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত