বাংলাদেশ ভারতে না খেললে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

বাংলাদেশ যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বাংলাদেশের বদলে অন্য একটি দলকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেয়া হবে, জানিয়েছে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো। বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, এই বিষয়ে একটি ভোট হয়েছে আইসিসি'র নির্বাহি সভায়। ১৬ সদস্যের আইসিসি বোর্ডের মধ্যে মাত্র দুজন সদস্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচিতে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেন। 

আইসিসি'র নির্বাহি কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল,  পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ও আইসিসি'র প্রধান নির্বাহি, ইভেন্ট আয়োজনের প্রধান ও আইনি পরামর্শক সংস্থার প্রতিনিধিরা। আরও ছিলেন সহযোগী সদস্য দেশ থেকে দুই জন প্রতিনিধি।

বিসিবিকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ১ দিনের সময় সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে তাহলে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড খেলবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

আইসিসি বোর্ড সভার পর একটি বিবৃতিতে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে---

“গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক সংলাপে যুক্ত ছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এ সময়ে আইসিসি স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তাসহ বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছে। এসব মূল্যায়নের সবগুলোতেই ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে যে, ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।

“এই সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিসিবি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং বারবার একটি একক, বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে—যা তাদের একজন খেলোয়াড়ের (মোস্তাফিজুর রহমান) একটি ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণসংক্রান্ত—টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে যুক্ত করেছে। এই বিষয়টির সঙ্গে আইসিসি পুরুষদের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামো কিংবা অংশগ্রহণের শর্তাবলির কোনো সম্পর্ক নেই।

“আইসিসির ভেন্যু ও সূচি–সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় বস্তুনিষ্ঠ হুমকি মূল্যায়ন, আয়োজক দেশের নিশ্চয়তা এবং টুর্নামেন্টের স্বীকৃত অংশগ্রহণ নীতিমালার ভিত্তিতে, যা অংশগ্রহণকারী ২০টি দেশের জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের দলের নিরাপত্তাকে বাস্তবভাবে বিঘ্নিত করে—এমন কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিবেদন না থাকায়—আইসিসি ম্যাচ স্থানান্তর করতে পারছে না। তা করলে অন্য দল ও বিশ্বজুড়ে থাকা সমর্থকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে এমন একটি দূরপ্রসারী নজির সৃষ্টি হবে, যা আইসিসির শাসনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা ও অখণ্ডতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

“আইসিসি সদিচ্ছার ভিত্তিতে কাজ করা, একক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ মানদণ্ড বজায় রাখা এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সম্মিলিত স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত