আইসিইউ রোগীদের চিকিৎসায় বিশ্বমানের সেবা সম্প্রসারণে একটি আন্তর্জাতিক একমো সেমিনার হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এ সেমিনার হয়। ‘একমো : বাংলাদেশ অ্যান্ড গ্লোবাল পাসপেকটিভ’ এ সেমিনারের আয়োজন করে অ্যাকিউট অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ফিজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এসিসিপিএফবি)।
একমো একটি অত্যাধুনিক লাইফ সাপোর্ট প্রযুক্তি, যা গুরুতর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুস বিকল রোগীদের ক্ষেত্রে শরীরের বাইরে কৃত্রিমভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড অপসারণের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করে। প্রচলিত ভেন্টিলেশন বা চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য একমো অনেক সময় শেষ আশার আলো হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তির সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার বাংলাদেশের ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।
সেমিনারে একমো বিষয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক মানদ- নিয়ে অনলাইনে মূল বক্তব্য রাখেন সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের প্রখ্যাত কার্ডিওথোরাসিক ও একমো বিশেষজ্ঞ ডা. কে আর রামানাথান। তিনি একমো ব্যবহারের আন্তর্জাতিক প্রটোকল, রোগী নির্বাচন, আধুনিক কৌশল এবং দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একমো ব্যবহারের বর্তমান চিত্র ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন স্কয়ার হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের চিকিৎসক ডা. শিহান মাহমুদ রেদওয়ানুল হক এবং ডা. রাজিউদ্দিন আহমেদ। তাদের উপস্থাপনায় দেশের বাস্তবতায় একমো ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ, কেস এক্সপেরিয়েন্স এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে আসে।
কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (সিএমএইচ) ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেন্টারের হেড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুর রহমান সিএমএইচে একমো সেবা চালুর বাস্তব অভিজ্ঞতা, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন অ্যাকিউট অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার ফিজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানী। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. মেহজাবিন জাহাঙ্গীর। সায়েন্টিফিক পার্টনার ছিল রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
