‘ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির কথা ভিত্তিহীন’

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৯ এএম

ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক অপপ্রচার’ বলেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমীন বলেন, ‘জামায়াতের প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির যে দাবি করেছেন, তার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি এবং পারবেনও না। যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার ন্যূনতম কোনো বাস্তবতা বা সত্যতা নেই। ফলে এটি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরির অপকৌশল কিংবা অপপ্রচার বলেই আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়ে থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট নেতার অজ্ঞতাও হতে পারে। তবে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট, ভারতের সঙ্গে বিএনপির কোনো চুক্তির কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াত নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রধান ভারতের সঙ্গে তিনটি শর্তে চুক্তি করেছেন।

মাহদী আমীন বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা মানে ইতিবাচক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। অপপ্রচার, অপকৌশল কিংবা অপরাজনীতির কোনো জায়গা সেখানে নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি মানেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতায়নই বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি।’

দলের অতীত অবস্থান তুলে ধরে মাহদী আমীন বলেন, ‘পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে তিস্তা ও পদ্মাপাড়ে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে বিএনপি। সীমান্তে ফেলানি হত্যার ঘটনার পর প্রথম প্রতিবাদও করেছে বিএনপি। শহীদ জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই বিএনপির রাজনৈতিক ঐতিহ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমীন জানান, ‘নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ জোরদার ও নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ‘‘ইলেকশন হটলাইন’ চালু করা হয়েছে। হটলাইনের নম্বর ১৬৫৪৩ এবং হোয়াটসঅ্যাপ হটলাইনের নম্বর ০১৮০৬৯৭৭৫৭৭।’

শহর ও গ্রাম সারা দেশের নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান মাহদী আমীন। বহু মানুষ হটলাইনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড নিয়ে সতর্কতা প্রসঙ্গত মাহদী আমীন বলেন, ‘একটি প্রতারকচক্র এসব কার্ড দেওয়ার নামে কিছু এলাকায় টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই কার্ডের নামে যদি কেউ টাকা দাবি করে, তা সম্পূর্ণ অনাকাক্সিক্ষত ও অগ্রহণযোগ্য।’ এমন ঘটনার তথ্য বিএনপিকে জানাতে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আনা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত ‘হাইপার প্রোপাগান্ডা’ মন্তব্য করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আপনারা দেখেছেন যে, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে উনি উত্তরবঙ্গের সফর, তার নিজের যে জেলা সেই বগুড়া এবং রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার কর্মসূচি বাতিল করেছেন।’

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন থেকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড করা যাবে, ঠিক সেই দিন থেকেই তিনি দেশের একজন প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে সেখান থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এমন অভিযোগ করা হচ্ছে দাবি করে রিজভী বলেন, ‘বরং এটা একটি পরিকল্পিত হাইপার প্রোপাগান্ডার অংশ। জনাব তারেক রহমান, তার যে ডিসেন্ট (শালীন) কথাবার্তা, চমৎকার বক্তব্য এবং জনগণের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে তার বক্তব্য আজকে প্রশংসিত হচ্ছে। তার নেতৃত্ব আজকে সারা দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। এটাকে হেয় করার জন্য এবং জনগণের কাছে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য এই কথা বলা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত