জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিএনপি এত খারাপ হলে তাদের দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেনি কেন?’ গতকাল মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৪টা ৩ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মঞ্চে ওঠেন। তারেক রহমান বলেন, ‘এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তাদের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপি বিরুদ্ধে। ওই দলটি বলছে, বিএনপি নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান ছিল। আমার প্রশ্ন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে তাদেরও দুজন সদস্য (মন্ত্রী) ছিল। বিএনপি এত খারাপ হলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেননি।’
বক্তব্যের মাঝপথে মঞ্চে থাকা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের দাঁড় করিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান।
বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে তারেক রহমান অন্য সমাবেশের মতো এদিনও সবাইকে সালাম ও ভালো আছেন কি না, জানতে ছেয়ে বক্তব্য শুরু করেন। আর বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান রেখে বিদায় নেন। এরপর তার গাড়িবহর গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘এজন্য তারা পদত্যাগ করে আসেনি, তারা জানত, খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে। ওই দুজন সদস্য যারা বিএনপি সরকারের অংশ ছিল, তারা জানতেন খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশয় দেন না। সব আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, তৎকালীন বিদায়ী সরকার (যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে) তাদের সময় দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। আর ২০০১ সালে খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা দায়িত্ব পায় তখন দেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘যে দল বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের (মন্ত্রী) সরকারের প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত থাকা প্রমাণ করে, তারা নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা কথা বলছে।’
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘ভোটের তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্র গিয়ে ফজরের আদায় করে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে হবে। এরপর ভোট দিয়ে চলে আসলে হবে না। কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে হবে। যাতে কেউ আমাদের ভোট লুটপাট করতে না পারে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটের পরে আপনাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে খাল খনন কর্মসূচিতে। সবাই কোদাল নিয়ে আসবেন। সেই দিন আমিও থাকব।’
একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে থাকার আহ্বান তারেক রহমানের : ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে সবাইকে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেছেন, ‘১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন, মুরুব্বি যারা আছেন, আমাদের বয়সী যারা আছে তারা দেখেছেন, জানেন সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরে ২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, ’২৪-এর আন্দোলনই হোক, কে পাহাড়ি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ, এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে। এবারও ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ মঞ্চে ওঠার আগে তারেক রহমান সমাবেশস্থলের পাশে থাকা জুলাই আন্দোলনের আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে তার কাছে ময়মনসিংহের তারাকান্দাকে পৌরসভা করার দাবি জানানো হয়। এর আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লুৎফুরজ্জামান বাবর প্রমুখ। প্রার্থীরা তাদের বক্তব্যে এই বিভাগের নেতাকর্মীদের নিজেদের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
লুৎফুরজ্জামান বাবর বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। আগামী দিনে তাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই।’
সমাবেশে ময়মনসিংহের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে বড় অংশ ছিল মধ্য বয়স্ক। তারা জানান, এই মাঠে এর আগে সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
