শুধু মা-বাবা, ভাই-বোন নয়, বরং যে পরিবারে বাবা-মায়ের সঙ্গে চাচা-চাচি, ফুপু, দাদা-দাদি সবাই একসঙ্গে বসবাস করে সেই পরিবারকে বলা হয় একান্নবর্তী পরিবার। তবে এখন পরিবারগুলো শহরমুখী হওয়ায় একান্নবর্তী পরিবারের সংখ্যা গেছে কমে আর ক্রমাগত বাড়ছে একক পরিবার। একান্নবর্তী পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিলেন চাচা, ফুপুরা। কখনো কখনো শহরে পড়তে আসা মামা-খালারাও থাকতেন এই পরিবারের সদস্য হয়ে। পরিবারের শিশুদের সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ ফুটে উঠত সে সময়ের শিশুসাহিত্যে। একক পরিবার শুধু বাবা-মা আর সন্তানদের নিয়ে গঠিত বলে এখনকার শিশু সাহিত্যে সেই মামা বা চাচাদের চরিত্র তেমন দেখা যায় না। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কথাসাহিত্যিক আবুল কালাম আজাদের বল্টু মামার উপহার কিশোর উপন্যাসটি।
সোফীর প্রথম হওয়ার খুশিতে তার মামা বল্টু একটি উপহার দিতে চান। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বল্টু মামা তাকে অস্ট্রেলিয়ার কোনো পাখি না বরং দেশের পাখিই দিতে চান। কিন্তু নাম শুনে সোফীর মনে হলো না যে, পাখিটা দেশি। যদিও পাখির বাংলা নাম শুনে সে আশ্বস্ত হলো। কিন্তু পাখি পুষতে বাবা অনুমতি দেবেন কেন? বাবার মনটা নরম। তিনি চান না বিনা কারণে কোনো প্রাণীকে বন্দি করে রাখা হোক। যে জাতের পাখি বল্টু মামা উপহার দেবেন সেই জাতের পাখির আশ্চর্য ক্ষমতার কথা বলে সোফী ঠিকই তার কাছ থেকে অনুমতি আদায় করে নিল। এবার মায়ের পালা। মা কিছুতেই অনুমতি দেবেন না। পাখি খুব ঘর নোংরা করে। সোফী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিয়ে নিল নিজের কাঁধে। তারপর এক শুভ দিনে তারা গেল পাখি কিনতে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত কিনে নিয়ে এলো ভূত। খাঁচার ভেতরে অদৃশ্য ভূতকে নিয়ে বাসায় আসার সময় যে মজার কা- হলো তা বলে তোমাদের রসভঙ্গ করতে চাই না। আর বাসায় সেই খাঁচার ভূতের কারণে যে কা- হলো সেটিও কম মজার নয়। শেষে সোফী ভাবল, সে ভূতটাকে ছেড়ে দেবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ভূতটাকে ছেড়ে দিল সোফী। আর যাওয়ার সময় ভূতটা বলে গেল, সোফী যদি শালিক পাখি পোষে তাহলে সে যেন পাখিকে শেখায় একটি নির্দিষ্ট কথা। পাখিটা একটা কথা আগে থেকেই জানত। আর সোফী শিখিয়েছিল আরেকটা কথা। যেটি ভূতটা শিখিয়ে দিয়েছিল। পাখির এই দুই জ্ঞানই মুখোশ খুলে দেয় সোফীর বাবার অফিসের বড় কর্তার। সেটিও এক মজার ঘটনা। জানতে হলে পড়তে হবে ‘বল্টু মামার উপহার’।
কথাসাহিত্যিক আবুল কালাম আজাদের লেখা সুস্বাদু। সহজ ভাষায় আড়ম্বরহীন গদ্যে লিখে যান মনোমুগ্ধকর গল্প। কাহিনিতে এতই অভিনবত্ব থাকে যে, একঘেয়েমি আসে না। কিশোরদের উপযোগী এই উপন্যাসও তার ব্যতিক্রম নয়। শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা প্রোথিত করে দিয়েছেন এই উপন্যাসে হাস্যরসের মাধ্যমে।
সুলতানা রাজিয়া
