জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি ১২ তারিখ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে, সব চাঁদাবাজকে নির্মূল করা হবে। আশা রাখি, ১৩ তারিখ থেকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। কারও মুখের দিকে তাকানো হবে না। চাঁদার কবল থেকে মুক্তির জন্য আমরা সেদিন নির্দয়-নিষ্ঠুর হব। তবে চাঁদাবাজরা ভয় পাবেন না, আপনাদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকান্ড১২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ ছাড়া জামায়াত আমির পৃথক পৃথক সময়ে ঢাকান্ড১৪, ঢাকান্ড১৬ ও ঢাকান্ড১৭ আসনে জনসমাবেশে বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে ‘মিরপুর-১০’ নম্বর এলাকায় অফিস ও মাল্টিমিডিয়া বাসের উদ্বোধন করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেব না। আমরা তাদের হাতকে দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব। তারাই বাংলাদেশ গড়ে দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করলে, বাংলাদেশ লাফ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা বৈষম্য চাই না। অবশ্যই ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে, সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি বলেন, কৃষক তার পণ্যের মূল্য পায় না। পণ্য ঢাকায় আসতে আসতে মূল্য তিন-চারগুণ হয়ে যায়। এটির কারণ, সিন্ডিকেট ও চাঁদা। এদের কারণে কৃষক, ভোক্তা ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এত দুর্নীতির মধ্যেও কেন আমরা পদত্যাগ করে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেয়নি? বিরোধীদের এমন সমালোচনার জবাবে জামায়াত আমির বলেন, অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয় বেঁচে যাক, দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পাক। দেশ ভালো মানুষের হাতে থাকলে দুর্নীতি হয় না, এটি অন্তত মানুষ বুঝতে পারে। দোয়া করেন, আমরা যদি ওয়াদা রক্ষা করতে পারি। জিতলে ওয়েলকাম, না জিতলে ওয়েলকাম, আমি ফল মানি না; এই সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে।
৫ আগস্ট-পরবর্তী দলীয় ভূমিকার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বলেছিলাম, কারও ওপর প্রতিশোধ নেব না, কারও ওপর জুলুম করব না। একটিও মিথ্যা মামলা দেয়নি। আমাদের আর্থিকভাবে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমাদের সহকর্মীরা কারও সঙ্গে অন্যায় করেনি। আমাদের সহকর্মীরা দেশকে ভালোবাসে, তাই তারা চাঁদাবাজি করে না। আমাদের কর্মীরা আল্লাহকে ভয় করে। তাই তারা কোনো অন্যায় করে না।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, আলামত ভালো নয়। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় হামলা হচ্ছে, বাধা দেওয়া হচ্ছে। আপনারা বলেছেন, ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন উপহার দেবেন। এখনো জনগণ আশ্বস্ত হয়নি। আপনারা উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণকে আস্থায় আনেন। অন্যথায় ব্যর্থতায় দায় নিতে হবে।
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জামায়াত আমিরের আজ শুক্রবার নির্বাচনী সফরে ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, লাকসাম ও কুমিল্লায় জনসমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মাল্টিমিডিয়া বাস উদ্বোধন : গতকাল রাজধানীর ‘মিরপুর-১০’-এ অফিস ও মাল্টিমিডিয়া বাসের উদ্বোধন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, দেশের সম্পদ এবং সম্মান যাদের হাতে নিরাপদ, ১২ তারিখ তাদের হাতেই দেশের চাবি উঠবে। তিনি আরও বলেন, দেশবাসী এবার পরিবর্তন চায়। জামায়াত চায় দেশের মানুষের বিজয়। নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষ বিজয়ী হবে, যদি জামায়াত বিজয়ী হয়।
ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে ডা. শফিকুর রহমান ও মাইকেল মিলার বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিন রিগার ব্রাউন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহমুদুল হাসান চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক : জামায়াত আমিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকার দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বৈঠক করেন। তার সঙ্গে ছিলেন দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনস্যুলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট ও পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ। বৈঠকে তারা বাংলাদেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প-বাণিজ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন ও আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
