জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবি এবং নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন (রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা) ঘেরাও কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর রাজধানীর শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও বাংলা মোটর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একদিকে পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করতে থাকে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এর মধ্যে ‘পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত’ এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা শাহবাগ অবরোধ করেন। সেখানেও রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এদিকে পুলিশের সঙ্গে হঠাৎ করেই শাহবাগ মোড় ছেড়ে যান আন্দোলনকারী।
এদিকে পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অনেকে আহত হওয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এই কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ডাকসু নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রকে কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ আশঙ্কা করে তাদের জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ আন্দোলনে অংশ নিয়ে এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করে দেওয়ার বা ভিন্ন পথে পরিচালিত করার ষড়যন্ত্র করছে।
এর আগে রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাকটিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এর আগে রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে সরেজমিন দেখা যায়, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মিছিল ও সেøাগান দিচ্ছে। অন্যদিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনমুখী রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ অবস্থান করছে।
শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার পর সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। এতে শাহবাগ মোড়ে চলাচলরত সব যানবাহন স্থবির হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শাহবাগ মোড় ছেড়ে চলে যায়। রাত ১১টার দিকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সর্বশেষ ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুক পেজে জানায়, লীগ অ্যাকটিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।
এর আগে উত্থাপিত ‘নির্বাচন বানচালের জন্য এই আন্দোলন’ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইনকিলাব মঞ্চ জানায়, নির্বাচন ১২ তারিখেই হবে। নির্বাচন হতেই হবে। কোনোভাবেই নির্বাচন বানচাল করতে দেওয়া হবে না।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু শুক্রবার সকাল থেকে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক দফা চড়াও হয়। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে জড়ো হওয়া কয়েকশ আন্দোলনকারীর ওপর লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। এ সময় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে যমুনার সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেওয়া সরকারি কর্মচারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা বাগ্বিতণ্ডা চলে। একপর্যায়ে ব্যারিকেড ভেঙে তারা যমুনা অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি অ্যাকশন শুরু হয়। বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের অ্যাকশন শুরু হয়। লাঠিচার্জসহ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এর বিপরীতে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। দফায় দফায় বাংলা মোটর মোড়, শাহবাগ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। গতকাল বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে এবং রাত পর্যন্ত আন্দোলন চলে। এ সময় ডাকসু, জুলাই ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। শাহবাগ ব্লকেডকালে ছাত্র-জনতা ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’, ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’, ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’, ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘তুমি কে আমি কে, জাবির জাবির’, ‘বাংলাদেশের জনগণ, নামে আসুন, নেমে পড়–ন’সহ নানা সেøাগান দেয়।
ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসুর জিএসসহ আহত অন্তত ৩১ : আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৩১ জন আহত হন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতরা হলেন আম্মার (২৪), আব্দুল্লাহ আল জাবের (২৪), ঝুমা (২৪), মনির (২৪), ফয়সাল (২৪), জয় (২৪), জুলকার (২৩), মোশাররফ (২৪), নিলয় (২৩), অনিক (২৪), উমর (২৪), রাহাত (২৩), রাসেল (২৪), আহাদ (২৩), মাহিন (২৪), আজাদ (২৪), শামিম (২৩), সোহেল (২২), শাওন (৩২), জাবেদ (৩০), ঝুমা (৩০), আম্মাদ (৩০), শামিম (২৮), আঞ্জুমান (৩৫), সাব্বির (২৪), জিসান (২১), মুজিদ (২৩), ইউসুফ (৩৫), রিফাত (২১), ইউসুফ (৩২) ও লিয়ন (১৯)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও সাতজন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
নবম পে-স্কেল আন্দোলনের সূত্রপাত : নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের এক দফা দাবিতে সমাবেশ করেন সরকারি কর্মচারীরা। সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বেলা ১১টার পর শাহবাগে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন সরকারি কর্মচারীরা। এ সময় পুলিশ দ্বিতীয় দফায় জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেয়। বেলা ১টার পর সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে আন্দোলনকারীদের একাংশ শাহবাগের দিকে, আরেকাংশ বাংলা মোটরের দিকে চলে যায়। বিকেলে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তারা যমুনার সামনে এগিয়ে যায়। এ সময় জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে যান আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনরত নেতারা জানান, দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। পুলিশের লাঠিচার্জে ১৫ থেকে ২০ জন সরকারি কর্মচারী আহত হয়েছেন। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে।
ছত্রভঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি ব্যবহার করেনি ডিএমপি : ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যমুনা ও আশপাশ এলাকায় বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি পুলিশ। জনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার বিভিন্ন দাবি নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের বাধা অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে ডিএমপি জানায়।
ডিএমপি জানায়, পুলিশ নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছে এবং কোনো আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি। এতে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হয়েছেন। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যমুনার সামনে তিনজন নিহতের খবর সত্য নয়
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ’ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছে যে, পুলিশের গুলিতে যমুনার সামনে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কিন্তু ফ্যাক্ট যাচাইয়ে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেলেও নিহতের তথ্য নেই। অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও এ তথ্য পাওয়া যায়নি।
যমুনার নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি : ইনকিলাব মঞ্চ ও নবম পে-স্কেল দাবির আন্দোলন ঘিরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার নিরাপত্তায় কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও নিন্দা : ইনকিলাব মঞ্চের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন, সরকারকে অতিদ্রুত ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে হবে। আন্দোলনরতদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হাদি হত্যার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে শান্তিপূর্ণ ‘ভুখা মিছিল’ কর্মসূচি চলাকালে কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার নবম পে-স্কেলের দাবিতে শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়। সমাবেশ শেষে যমুনা অভিমুখে শান্তিপূর্ণ ‘ভুখা মিছিল’ চলাকালে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে বাড়তি পুলিশ : ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর শাহবাগ ও বাংলা মোটর এলাকায় উত্তেজনার জেরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সামনে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ‘বাড়তি সতর্কতা’ হিসেবে এ মোতায়েনের কথা জানান পুলিশের তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আক্কাছ আলী। তিনি বলেন, শাহবাগ ও বাংলা মোটরে ঝামেলা হচ্ছে, সেজন্য সতর্কতার অংশ হিসেবে এখানে ডেপ্লয়মেন্ট বাড়ানো হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তারাও রয়েছেন।
ওই পত্রিকা দুটিতে আবার হামলার আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, ঠিক এমন নয়। ওদিকে ঝামেলা হচ্ছে, যদি এদিকে আসে সেজন্য অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ডেইলি স্টারের এক কর্মী জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের হোম অফিস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।