দিনাজপুরের বীরগঞ্জের চাঞ্চল্যকর কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় তাইজুল ইসলাম নামে এক বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে র্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিডিয়া বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় দিকে ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ফলের মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তাইজুল ইসলাম (৪০) দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার মহুগাঁও গ্রামের আবু বক্কর আলীর ছেলে।
এঘটনায় গত ৩১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বীরগঞ্জ থানায় তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদিনী ৬ মাস পূর্বে অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তার স্বামী পাশের কক্ষে ঘুমন্ত অব্স্থায় তার বড় মেয়েতে অস্বাভাবিক স্পর্শ করে। তার মেয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠায় তার স্বামী নিজ কক্ষে চলে আসে। গত বছরের জুলাই আসামি তার মেয়েকে জোরপূর্বক ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করে। উক্ত বিষয়টি ভিকটিম তার মাকে জানালে ভিকটিমের মা তার আসামিকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অভিযুক্ত আসামি পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত আসামি বিভিন্ন সময় খাবারের ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে অচেতন করে তার নিজ মেয়েকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিল। সবশে গত ২৬ জানুয়ারি মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফিরে সবাইকে খেতে দিলে ধর্ষণের শিকার তার বড় মেয়ে মিষ্টির ভেতর ওষুধ দেখতে পেয়ে মিষ্টি ফেলে দেয়। এতে অভিযুক্ত বাবা মেয়েকে মারধর করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর মা কিশোরীর চাচা ও চাচীসহ আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত আসামি রাতেই পালিয়ে যায়।
র্যাব জানায়, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। থানা মামলা হওয়ার পর আসামি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব ছায়াতদন্ত অব্যাহত রাখে এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ তাকে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
