১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৮ সালের পর এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর বাংলাদেশের এ নির্বাচনকে বিশ্বের প্রথম জেন-জি অনুপ্রাণিত নির্বাচন হিসেবে অ্যাখায়িত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী দলগুলো প্রায় কার্যকরী ছিল না। কখনো ভোট বর্জন, কখনো শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তাদের দমন করা হতো। তবে এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন।
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি জোটও শক্তিশালী। ৩০ বছরের কম বয়সী জেন-জি নেতৃত্বাধীন নতুন দল (এনসিপি) প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দাবি করেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট আসন পাবে। রাজনৈতিক প্রচারণাও আগের নির্বাচনের তুলনায় পুরোপুরি পরিবর্তিত। দেশের প্রতিটি প্রান্তে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতীক দেখা যাচ্ছে, মোড়ে মোড়ে প্রচার চলছে। এবারের নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলবে না, দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও চীনের ভূরাজনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। হাসিনার পতনের পর এ অঞ্চলে ভারতের প্রভাব কমেছে আর চীনের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন এ জাতীয় নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন রূপ দিতে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মুখোমুখি। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ দুর্নীতি ও মূল্যস্ফীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যে অস্থিতিশীলতা চলছে, তা থেকে উদ্ধারের জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই জরুরি।
