হেঁটে আসার শক্তি নেই, তাতে কী? ভোট তো দিতে হবে। কারণ তিনি আগেই বুঝে গেছেন, এবার একজনের ভোট অন্য কেউ দিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট না দিয়ে ফিরেও আসতে হবে না। পড়তে হবে না কোনো হুমকি আর বাঁধার মুখে। তাই শারীরিক অসুস্থতাও আকটাতে পারেনি ষাটোর্ধ রাশিদা মামুনকে।
দুই হাতে ওয়াকারে ভর দিয়ে ঢাকা-১২ আসনের শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন নয়াটোলার এই বাসিন্দা। শুধু ওয়াকারে ভর দিয়েও তিনি হাঁটতে পারছেন না। সঙ্গে থাকা স্বজন তাকে ধরে নিয়ে যখন কেন্দ্রের গেট থেকে ঢুকছিলেন, তখন চোখে মুখে যেন তার ঈদের খুশি। সাংবাদিক দেখে এবার থামলেন। কোমর সোজা করে একগাল হেসে ইশারায় কাছে ডাকলেন। বললেন, ' বাবা একটা ছবি তোলো।' ছবি তোলার পর সামনে এগোতে এগোতে অতীতে ভোট দিতে না পারার অফসোস করে বলছিলেন, 'অনেক বছর পর ভোট দিতে আসছি। ভালো ভাবে আসছি, আল্লাহর রহমতে কোনো সমস্যা হয়নি। খুব ভালো লাগছে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক। সব সময়ই দেশে যেন এমন উৎসবের ভোট হয়। সবাই যেন শান্তিতে ভোট দিতে পারে।'
শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৫ টি কেন্দ্র। ১১৯ নং কেন্দ্রের একটি বুথে বেলা ১২ টার দিকে তরুণীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সিয়াম সারওয়ার জানান, এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৭৭২ জন ভোটার। বেলা পৌনে ১২ টা পর্যন্ত ৪০৭ জন অর্থাৎ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।
সিয়াম সারওয়ার বলেন, হুইল চেয়ারে ও ক্রাচে ভর দিয়ে দিয়েও ভোটাররা আসছেন। এছাড়াও সব বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণ রয়েছে।
এই আসনের ১২১ নাম্বার কেন্দ্রে বেলা ১১ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া বেলা ১ টা পর্যন্ত কার্জন হল পরীক্ষা কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩৩ শতাংশ। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আতিক মাহমুদ বলেন, বেলা ১টা থেকে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এই কেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছিলেন নাদিয়া তাইশি। তিনি ২০১৭ সালে ভোটটার হলেও এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছেন। এর আগে ২০১৮ এবং ২০১৪ সালের ভোট দিতে যাননি। নাদিয়া বলেন, 'এবার আমি ভোটের আগে মোবাইলে মেসেজ পেয়েছি। কিন্তু আগের বারের ভোটগুলোর সময় কোনো মেসেজ পাইনি। আমি জানতাম আমার ভোট কেউ দিয়ে রেখেছে। সেজন্য তখন ভোট দিতে যাইনি। এবার বুঝেছি কেউ আমার ভোট দিয়ে দিতে পারবে না। তাই ভোট দিতে আসছি। এটাই আমার জীবনের প্রথম ভোট। খুব ভালো লাগছে।'
