হৃদয়ে খোদাভীতির বীজ বপন

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

নিজের ভুলগুলো শুধরে স্রষ্টার একান্ত অনুগত হওয়াই সবচেয়ে বড় সার্থকতা। জাগতিক মোহ ও অন্তহীন ব্যস্ততার আবর্তে পড়ে আমরা ভুলে যাই আমাদের প্রকৃত পরিচয় ও গন্তব্য। এমনই এক সংকটাপন্ন সময়ে আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে হাজির হয় পবিত্র মাস রমজান। হৃদয়ে খোদাভীতির বীজ বপন করে আধ্যাত্মিকতার উচ্চ শিখরে আরোহণ করাই এই মাসের মূল লক্ষ্য। যখন একজন মানুষ অন্তর থেকে আল্লাহকে ভয় করতে শেখে, তখন তার যাপিত জীবনের প্রতিটি বাঁক বদলে যায়। সংকটে বিচলিত না হয়ে অসীম ধৈর্য আর স্রষ্টার ওপর অটল বিশ্বাসই তখন হয়ে ওঠে তার পথচলার সম্বল। রমজান আমাদের সেই বিশেষ সুযোগ দেয়, যেখানে আমরা আমাদের অন্তরের কৃপণতা, হিংসা ও অহংকারের মতো ব্যাধিগুলোর চিকিৎসা করতে পারি।

খোদাভীরুদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক পুরস্কার রয়েছে। পরকালীন সুখ ও সমৃদ্ধি কেবল তাদের জন্যই নির্ধারিত বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন আল্লাহতায়ালা। যারা খোদাভীরু নন তাদের পরিণতি হবে দোজখ। প্রশ্ন হতে পারে, নগদ কী পুরস্কার রয়েছে খোদাভীরুদের জন্য? পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৮২ নম্বর আয়াতের শেষাংশে মহান আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো, তিনি তোমাদের শিক্ষা দেন, আল্লাহ সবকিছু জানেন।’ অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করলে তিনি তোমাদের শিক্ষক তথা পথপ্রদর্শক হয়ে যাবেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন এমন একজন শিক্ষক, যিনি সবকিছু জানেন। সব শিক্ষকের বড় শিক্ষক এবং সব শিক্ষকদের শিক্ষক। এমন শিক্ষক ও পথপ্রদর্শকের ওপর ভরসার বিষয়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা তালাক ৩)

আসলে মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করা। ইবাদত-বন্দেগি, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদির পাশাপাশি ধৈর্যধারণ করে হালাল-হারাম বেছে চলা আবশ্যক। সেই সঙ্গে পাপকাজ থেকে বেঁচে থেকে তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করতে হবে। অন্তরে আল্লাহভীতি না থাকলে মানুষ যে কোনো পাপে লিপ্ত হতে পারে। অপরপক্ষে তাওয়াক্কুল মানুষকে অন্যায় পন্থায় অর্থ উপার্জনের প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখে এবং মানুষকে অনেক বিপদাপদ থেকে রক্ষা করে।

আসলে মহান আল্লাহর প্রিয়পাত্র হওয়ার কোনো সূত্র নেই। আলেমদের কাছে গিয়ে আপনি যদি বলেন, আমাকে এমন কিছু শেখান যাতে আমি আল্লাহর অলি হয়ে যাই বা পবিত্র কোরআন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার মুখস্থ হয়ে যায়। তারা বলবেন, আগে যা কিছু জানো তা আমল করো, সেই চেষ্টা করতে থাকো। এটাই সঠিক পথ। সুরা তালাকের প্রথম আয়াতের শেষাংশে ও দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।’

অন্য কথায়, খোদাভীরুরা বিপদ-আপদ ও সংকটে বিচলিত হন না। তারা জানেন, এসব পরীক্ষা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসছে এবং আল্লাহ নিজে এসব বিপদ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু আমাকে ভরসা করতে হবে আল্লাহর ওপর এবং খোদাভিরুতার পথে অবিচল থাকতে হবে। আর্থিক সংকট দেখা দিল বলেই অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন শুরু করে দেন না খোদাসচেতন ব্যক্তি। খোদাসচেতন ব্যক্তির জন্য সব সময়ই গাইড হন মহান আল্লাহ।

খোদাসচেতনদের জন্য আরেকটি পুরস্কার হলো, আল্লাহ তাদের পাপ ক্ষমা করে দেন। তাদের বড় রকমের তথা অকল্পনীয় মাত্রায় পুরস্কার দেন। বস্তুত রমজান হলো, খোদা সচেতনতা অর্জন ও বেশি বেশি করে তওবা করার মাস। এ মাসে যদি আত্মশুদ্ধি অর্জন সম্ভব না হয় তবে কখন তা সম্ভব হবে? এই মাসে যদি আল্লাহর ক্ষমা না পাওয়া যায় তবে তা কখনো পাওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ আমাদের সবক্ষেত্রেই সুপথ দান করুন।

লেখক : ইমাম ও খতিব, দারোগা আমীর উদ্দিন ঘাট মসজিদ, বাবুবাজার, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত