পাঠদান শুরু হয়েছে দেড় মাস আগে। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা হলেও পাবনা সদর উপজেলার দুটি বিদ্যালয়ের কয়েকশ কোমলমতি শিক্ষার্থীর স্কুলব্যাগ এখনো শূন্য। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অবহেলা এবং সময়মতো চাহিদা না পাঠানোর কারণে ইংরেজি ভার্সনের এই শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই পাওয়া যেখানে অধিকার, সেখানে কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে ফুঁসে উঠেছেন অভিভাবকরা। বর্তমানে অনলাইন থেকে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে অধ্যায়ভিত্তিক ফটোকপি সরবরাহ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতিবছরই চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে। নিয়ম অনুযায়ী আগের বছর ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে চাহিদা তালিকা পাঠানোর কথা থাকলেও পাবনা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থীদের তথ্য নির্ধারিত সফটওয়্যারে যুক্ত না করায় এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে পাঠানো প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাপস কুমার অধিকারী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সঠিক সময়ে চাহিদাপত্র দাখিল না করায় এই শিক্ষার্থীদের জন্য বই মুদ্রণই করা হয়নি। নতুন করে বই মুদ্রণ সম্ভব নয়।
অর্থাৎ, এক মাস ধরে শিক্ষা কর্মকর্তারা ‘বই আসবে’ বলে যে আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন, তা ছিল স্রেফ শুভঙ্করের ফাঁকি।
ইংরেজি ভার্সনের পাবনার স্বনামধন্য স্কয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহনাজ সুলতানা বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বই আমরা পেয়েছি। তবে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় বই আমরা পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য গত বছর আমরা বইয়ের চাহিদাপত্র দাখিল করেছিলাম। তবে বছরের শুরুতে বই পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো তিনটি শ্রেণির বই না মেলায় অনলাইন থেকে পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর ফটোকপি সরবরাহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে বই আসতে বিলম্ব হচ্ছে সেটি জানা নেই।’
নর্থপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ওলিউর রহমান বলেন, ‘প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বই পেলেও গণিত বইটি আমরা পাইনি। পুরনো বই ও ফটোকপি দিয়ে পাঠদান চলছে।’
ভুক্তভোগী কয়েকজন অভিভাবক জানান, ফেব্রুয়ারি শেষ হতে চলল। অথচ শিশুদের হাতে এখনো বই নেই। স্কুল থেকে বলছে, শিক্ষা অফিস বই দেয়নি।
চলতি বছর তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নুজহাত-ই-নূর বলেন, ‘কর্মকর্তাদের উদাসীনতার দায় কেন বাচ্চারা নেবে! শিশুরা ফটোকপি বা অনলাইন কপিতে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’
নিজেদের ভুল আংশিক স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল কবির বলেন, ‘চাহিদাপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি। আশা করছি আগামী দুদিনের মধ্যে বই পৌঁছে যাবে।’
তবে বিষয়টি সহজভাবে নিচ্ছেন না পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বই নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। কেন এমনটি হলো তা জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হবে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’