প্রথম বিনিয়োগ আসবে চীন থেকে

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ এএম

নতুন সরকারের আমলে দেশে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ চীন থেকে আসবে বলে জানিয়েছেন বাংলদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও তার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসে বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে উভয় প্রতিনিধির সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

উভয় বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রপ্তানি মো. আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব এফটিএ আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

ইইউ প্রতিনিধিদলে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রেডরিক ইনজা, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক, ইতালির রাষ্ট্রদূত এন্তোনিও আলসান্দ্রে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড অ্যাডভাইজর আবু সাঈদ বেলাল উপস্থিত ছিলেন।

ইইউ বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক যাতে ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হয় সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ কাজ করবে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগকে সহজীকরণ করতে চাই। বিগত তিন বছর অর্থনীতি স্থবির ছিল, বিনিয়োগ তেমন আসেনি। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ লোক কর্মে প্রবেশ করে, এই দেশকে ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি করতে চাই। আগামী সময়ে সেটি আপনারা দেখতে পাবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বেগবান করতে চায়। নন ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশীদারত্ব বজায় থাকবে। এ সময় তিনি দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা বাণিজ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার ও অনেক বড় প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দেশ। ভবিষ্যতে এ দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আরও বাড়াতে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের ছয়টি সার কারখানা রয়েছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বিঘিœত হয়। এলএনজি আমদানি করে সার কারখানা চালু করতে পারে এমন বিনিয়োগকারী খোঁজ করছি আমরা। উৎপাদিত সার সরকার কিনে নেবে বলে যোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের  বন্ধ পাটকলগুলোতেও চীনের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী।

চীনের রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চাকরির বাজারে চীন ভূমিকা রাখতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের আমলে প্রথম বিনিয়োগ আনবে চীন। আগামী পাঁচ বছর বিএনপি সরকারের হাত ধরেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানান তিনি। এ সময় রাষ্ট্রদূত বাণিজ্যমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত