ঢাকার বাজারে আরও কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহখানেক ধরে ধারাবাহিকভাবেই পেঁয়াজের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। প্রতি বছর রোজায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে। কিন্তু এবারে উল্টো ঘটনা ঘটছে।
ঢাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
জানা গেছে, বাজারে নতুন পেঁয়াজের ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। ভালো সরবরাহের কারণে চলতি মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম নামে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ছুটির মধ্যে বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। ঢাকার অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কারণ অনেকেই গ্রামে যান ভোট দেওয়ার জন্য। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। সে সময় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় উঠে যায়। তবে রোজার আগমুহূর্তে সরবরাহ স্বাভাবিক হয় এবং দাম কমতে থাকে।
এই দাম কমে ৬০ টাকায় নামে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ আবার ৬০ টাকা থেকে কমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নেমে আসে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, গত এক মাসের ব্যবধানে ৯ শতাংশেরও বেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে।
এদিকে শুধু পেঁয়াজই নয়, বাজারে লেবু শসার দামও কমতে শুরু করেছে। যদিও এখন তা মানুষের নাগালে আসেনি। তবে উল্টো খানিকটা বেড়েছে বেগুনের দাম।
ঢাকার খুচরা বাজারগুলোতে দেখা গেছে, প্রতি কেজি হাইব্রিড শসার দাম কমে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এখনো অবশ্য ৭০ টাকাও দাম চাইতে দেখা গেছে। যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। তবে দেশি শসা এবং ক্ষিরার দাম এখনো চড়া এবং তা একশ টাকার বেশি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।
এদিকে বেড়েছে বেগুনের দাম। পণ্যটি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে শুরুতে বিক্রি হলেও এখন ১০০ খেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ইফতারে অনেকে বেগুনি খেতে পছন্দ করেন। যে কারণে প্রতি বছর রমজানের সময় বেগুনের দাম বাড়ে। সেই ধারাবাহিকতা এবারও বজায় রয়েছে। বাড়তি চাহিদার কারণে পণ্যটির দাম প্রতি বছরই বাড়ে। এ ছাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এখন মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ৪০ থেকে ৬০ টাকা দিয়ে কেনা যাচ্ছে। আকারে একটু বড় হলে এক হালির দাম পড়বে ৮০ টাকা, যা রোজার আগের দিন থেকে প্রথম দুদিন যথাক্রমে ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
এবারের রমজানে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল লেবু। তবে লেবুর দাম বেড়েছিল দুই ধাপে। প্রথম দফায় দাম বাড়ে শবে বরাতের আগের দিন। দ্বিতীয় দফায় বাড়তে শুরু করে রোজার একদিন আগে। সে সময় অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, এক ডজন ডিমের যে দাম- তা দিয়ে এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে। তবে এখন বিক্রেতারা বলছেন, দিন যত যাচ্ছে লেবুর দাম তত কমছে।
বাড্ডার সবজি বিক্রেতা আরিফুল বলেন, রোজার শরবতের জন্যই লেবু কেনেন সবাই। এই বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়ে যায়। এখন অবশ্য লেবুর চাহিদাও কমছে, দামও কমছে। তিনি বলেন, ‘এবারে দাম বেশি হওয়ার কারণে লেবুর বিক্রিও কমে গেছে।’
এদিকে গত দুই দিনে কাঁচামরিচের দাম আরও কিছুটা কমেছে। মান ও জাতভেদে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা রোজার শুরুতে ২০০ টাকায় উঠে যায়।
