পবিত্র রমজানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো সাহরি ও ইফতার। শেষ রাতে সাহরি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। এতে অনেক বরকত রয়েছে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, কেননা সাহরিতে অফুরন্ত বরকত আছে।’ (সহিহ বুখারি)
সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনের বেলায় রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনের বেলা রোজা রাখার শক্তি অর্জন করো। আর দিনে বিশ্রামের মাধ্যমে রাতের নামাজের জন্য সাহায্য নাও।’ (ইবনে মাজাহ) শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া সুন্নত। রাতের শেষ প্রহরে সুবহে সাদিক তথা ফজর নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার খানিকটা আগেই সাহরি খাওয়া সেরে নেওয়া উচিত।
সাহরির মতোই গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত ইফতার। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারের কারণে আনন্দ পায়। অপরটি হচ্ছে, যখন সে তার রবের সঙ্গে মিলিত হবে তখন তার রোজার কারণে আনন্দিত হবে। (সহিহ বুখারি)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, আমার বান্দাদের মধ্যে তারা আমার বেশি প্রিয়, যারা দ্রুত ইফতার করে।’ (তিরমিজি) ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা উত্তম। এ ব্যাপারে সাহাল বিন সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ যতদিন পর্যন্ত ওয়াক্ত হওয়া মাত্র ইফতার করবে, তত দিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি)
ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। তাই এ সময়ে দোয়ার প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ইফতারের সময় রোজাদার যখন দোয়া করে, তখন তার দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। (ইবনে মাজাহ) অন্য হাদিসে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রোজাদারের দোয়া, যতক্ষণ না সে ইফতার করে, ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া এবং মজলুমের দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ)
ইফতারের সময় রোজাদারদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি ইফতারের সময় এবং রমজানের প্রতি রাতে আল্লাহতায়ালা বহু মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।’ (ইবনে মাজাহ)
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
