কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশীদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই মানুষগুলোর উন্নয়ন করতে পারলে দেশের অর্থনীতিও উন্নত হয়ে যাবে। আমাদের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কৃষিকে, যা এখন আমরা কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চাই।
গতকাল সোমবার প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতিবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল, স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান।
মোহাম্মদ আমিন-উর-রশীদ বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি কার্ড চালু হবে। কেননা আমাদের কাছে কৃষকদের সঠিক তথ্য নেই। আমরা এসব কর্ডের মধ্যে সঠিক ডেটা তৈরি করতে পারব। তিনি বলেন, আমাদের প্রচুর ঘাস উৎপাদন হয়। এত ঘাস উৎপাদন হওয়ার পরও পশুখাদ্যের দাম এত বেশি কেন তা একটি প্রশ্ন। এসব বিষয়ে আমরা মাঠপর্যায় থেকে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধান করব। বিভিন্ন অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক তথ্য ও সুপারিশ পেলে সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা পরিকল্পনা নিতে পারব।
মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্পর্কে তিনি বলেন, মহিলাদের হাতে অর্থ আসলে তারা সেটিকে বিনিয়োগ করে বৃদ্ধি করে থাকে। তাদের কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে উন্নয়ন করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির অগ্রগতির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। নির্বাচনে কৃষি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল, তা নিয়ে কাজ চলছে। ৩০০ কোটি টাকার ফান্ড যাতে ফেরত না যায় সেজন্য কর্মসূচি সাজাতে হবে।
ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৮২ হাজার খামারিকে সংগঠিত করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ৪৫৯টি উপজেলায় জলবায়ুসহিষ্ণু কাউ শেড তৈরি করা হয়েছে। ৮টি কৃত্রিম প্রজনন সেন্টার করা হবে, সেখানে ৫টি স্থাপন করা হয়েছে।
ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, কৃষি জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১৬ শতাংশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রাণীর সংখ্যা ৪৪২টি। আমরা ডিম ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ৬১টি জেলার ৪৬৬টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ খাতকে আধুনিক, প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৪৬৬টি উপজেলায় ৬ হাজার ৫০০টি প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠিত হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৫৮৩ জন খামারি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
