সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে পরদিনই সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অফিস শুরুর মধ্য দিয়ে ‘উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বাস্তবায়নে জোরেশোরে কাজ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী দেওয়ার প্রক্রিয়া। দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। গত শনিবার ছুটির দিনেও অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টরা। বলা যায়, দীর্ঘ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু ও বিতরণের প্রক্রিয়া শুরুর মধ্য দিয়ে সরকার নতুন এক কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। এ মাসেই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম দিন থেকেই সরকার মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতি জেলায় ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে সরকারের প্রতিটি কাজ সফল করতে হবে। অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের দীর্ঘ পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি এসব শুধু শুরু। প্রধানমন্ত্রী জনস্বার্থে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। কর্মপরিকল্পনা অনেক, সবগুলোই বাস্তবায়ন করা হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে আরও জানিয়েছেন, সরকার নতুন নতুন কর্মপরিকল্পান নিয়ে এগোচ্ছে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে চলমান সংকট কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সমীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সংকট নিরসনে নতুন করে কাজ করা হবে। প্রশাসনকে সেভাবেই সাজানো হবে।
সরকারের নানা পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারের শুরুটা ভালো। সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি দিয়ে প্রতিশ্রুতি পূরণে হাঁটা শুরু করেছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেকোনো প্রকল্প বা ভালো কাজ তড়িঘড়িতে যেন নষ্ট না হয়। অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে গেলে সঠিক মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকারকে এসবদিকে খেয়াল রাখতে হবে। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রকল্পের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।’
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্যমতে, গত মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ মার্চ বগুড়া থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাইলটিং শেষে এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে দুই কোটি পরিবারকে মাসিক নগদ সহায়তার আওতায় আনা। অন্তত পাঁচ সদস্যের এই পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন। পাইলট প্রকল্প চলাকালে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার এ কর্মসূচির আওতায় আসবে, যা ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে। এ কর্মসূচির মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক ব্যয় হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মতো ‘কৃষক কার্ড’ও চালু করতে যাচ্ছে সরকার। দ্রুতই এর পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসী কার্ড শিগগিরই চালু করা হবে। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। তবে এই সম্মানী কত টাকা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। একই সময়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ খুবই ভালো। খুবই ভালো যাত্রা। সহযোগী হিসেবে যদি দক্ষ আমলাতন্ত্র বা জনপ্রশাসনকে সাজাতে পারেন, তবেই জনগণ উপকৃত হবেন। না হলে উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যম জনগণের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর মানুষ নতুন করে আশাবাদী হচ্ছে। এটাও দেশের জন্য মঙ্গলজনক।’
