রাজধানী ঢাকায় বিদেশি দূতাবাসগুলোর অধিকাংশের অবস্থান বারিধারা, গুলশান ও বনানীতে। এই পুরো কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না নবনির্বাচিত সরকার। তাই চলমান বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল সোমবার এ কথা বলেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসেন। রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাতের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের লক্ষ্যে নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে এই আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব বেড়ে যাওয়া, বিক্ষোভ অব্যাহত থাকা এবং পাকিস্তানের করাচিসহ কয়েকটি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনগুলোয় বিক্ষোভকারীরা হামলার চেষ্টা করার পর ঢাকায় কূটনৈতিকপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাতায় রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আমার বৈঠকে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।’
কূটনৈতিকপাড়ায় নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কূটনৈতিক এলাকায় আগে থেকে মোতায়েন সদস্য ছাড়াও ডিসি গুলশানের অধীনে চার প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ৪০ পুলিশ সদস্যকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চার প্লাটুন এপিবিএন, দুই স্থানে চার প্লাটুন বিজিবি মোত য়েন রয়েছেন। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী কাজ করছে। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ রেখে কূটনৈতিকপাড়ার নিরাপত্তায় ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগ কজ করছে।
