ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিপণিবিতানে জমজমাট কেনাকাটা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। ইফতারের পর থেকেই মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবের কারণে ক্রেতাদের খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে মানুষ ঈদের কেনাকাটা করতে শহরে আসছেন। শহরের প্রধান সড়ক কাউতলী থেকে মেড্ডা পর্যন্ত রাস্তার আশপাশে অবস্থিত বেশিরভাগ বিপণিবিতানে এখন ক্রেতাদের ভিড়। গত কয়েকদিন বিভ্ন্নি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আশিক প্লাজা মার্কেট, পৌর আধুনিক সুপার মার্কেট, পুরাতন কোর্ট রোডের সিটি সেন্টার শপিং সেন্টার, ফরিদ উদ্দিন আনোয়ার টাওয়ার, ফরিদুল হুদা সড়কের বি-বাড়িয়া টাওয়ার, সড়ক বাজারের নিউমার্কেট ও টানবাজারের হকার্স মার্কেটে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। তুলনামূলকভাবে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। 

ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন মার্কেটে রঙিন আলোকসজ্জা এবং বাহারি ডিজাইনের পোশাক সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

দেড় বছরের ছেলে মীর ফারাজ, ১৪ বছরের মেয়ে মীম আক্তার ও ১১ বছরের মেয়ে মোনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ফরিদ উদ্দিন টাওয়ারের লাইক ফ্যাশন হাউজে কেনাকাটা করতে আসেন কুয়েত প্রবাসী মীর শাকিলের স্ত্রী মীর মুন্নি আক্তার। তিনি জানান, ছোট ছেলে ও ছোট মেয়ের জন্য পোশাক কেনা হয়েছে, এখন বড় মেয়ের জন্য পছন্দমতো পোশাক খুঁজছেন।

তিনি বলেন, ‘এবার কাপড়ের দাম অনেক বেশি। আমার স্বামী কুয়েতে থাকেন, সেখানেও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। ফোনে কথা বললে যুদ্ধের খবর শুনে ভয় লাগে। কিন্তু বাচ্চাদের জন্যই মার্কেটে আসতে হয়েছে।’

পুরাতন কোর্ট রোডের ফরিদ উদ্দিন আনোয়ার টাওয়ারের চতুর্থ তলায় দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম রয়েছে। এর মধ্যে শৈশব, দর্জিবাড়ি, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, আমব্রেলা, ক্লোজেন ও ম্যানস ওয়ার্ল্ড ট্রেন্ডি উল্লেখযোগ্য। তৃতীয় তলায় রয়েছে লাইক ফ্যাশন ওয়্যার ও নাইন জিরো। এছাড়া এফএ টাওয়ার সংলগ্ন এলেন কোর্ট ভবনের নিচতলায় এপেক্স, সড়ক বাজারে প্লাস পয়েন্ট, ডা. ফরিদুল হুদা সড়কে ইনফিনিটি মেগামল এবং পাইকপাড়া এলাকায় জেন্টল পার্কের শোরুমেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে সড়ক বাজারের বিলাসী মেগা মল, শাড়ি বিচিত্রা, রং বেরং, কমলালয় ও ইলোরাতেও ক্রেতাদের আনাগোনা রয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ছোট শিশু থেকে শুরু করে বড়দের ফারসি কামিজ, গাউন, আফগানি থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা ও পার্টি পোশাকের চাহিদা বেশি। ফারসি কামিজ ৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, গাউন ৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা, থ্রি-পিস দেড় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং লেহেঙ্গা ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের শার্ট ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং মেয়েশিশুদের পোশাক ১ হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ছেলেদের দেশি পাঞ্জাবি দেড় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা এবং ভারতীয় পাঞ্জাবি ২ হাজার ১৫০ থেকে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

লাইক ফ্যাশন ওয়্যারের স্বত্বাধিকারী আরমানুল হক বলেন, ‘ঈদের বাজারের বেচাকেনা মোটামুটি ভালো। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। মেয়েদের ফারসি কামিজ, গাউন, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গার পাশাপাশি পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও ভারতীয় বুটিকসের চাহিদা বেশি। মেয়েশিশুদের আফগানি পোশাক, হীরামান্ডি ও ফারসি কাটও ভালো বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের পাঞ্জাবির বিক্রিও ভালো।’

মার্কেটের নিচতলায় স্বপ্নলয় লেডিস অ্যান্ড বেবি ফ্যাশনের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাধারণত শবে বরাতের পর থেকেই ঈদের কেনাকাটা শুরু হয়। কিন্তু এবার নির্বাচনের কারণে কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় কাপড়ের ব্যবসা জমে ওঠে। গত কয়েকদিন বেচাকেনা ভালো হলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব রয়েছে। মানুষ এখন সহজে টাকা খরচ করতে চাইছেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত