রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত মাস। এই মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য নেক আমলের অসংখ্য দুয়ার খুলে দেন। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এ সময়। কারণ, রমজানে অল্প আমলেও বহুগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। তাই এই মাসে নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা সহজেই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ পায়। নফল ইবাদত মানুষের ইমানকে দৃঢ় করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে এবং ফরজ ইবাদতের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। যে মুমিন রমজানের দিন ও রাতকে নফল আমলে সমৃদ্ধ করতে পারে, তার জীবন আলোকিত হয়ে ওঠে এবং আখেরাতের জন্য সে অমূল্য পাথেয় সঞ্চয় করতে সক্ষম হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুয়াবুল ইমান)
রমজান মাসে পুণ্যের খাতা ভারী করার জন্য খুব সহজেই যেসব নফল আমল করা যায় তা হলো, প্রতিদিন বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, কোরআন তেলাওয়াত করা, জিকির-আজকার করা, দান-খয়রাত করা, সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ করা, দরুদ শরিফ পড়া, সালামের প্রচার-প্রসার করা, অধীনস্তদের ভার-বোঝা কমানো, অসহায়কে সহযোগিতা করা, আর্তপীড়িতের সেবা করা, রোগীর খোঁজখবর রাখা, মানুষের সঙ্গে হাসি মুখে কুশলাদি বিনিময় করা, সর্বোপরি সবার সঙ্গে সদাচরণ করা। ফরজ ইবাদতসমূহ পালন করা বান্দার আবশ্যিক কর্তব্য। এর জন্য বান্দাকে পরকালে হিসাব দিতে হবে। আর নফল ইবাদত হলো আবশ্যিক কর্তব্যের অতিরিক্ত। নফল আদায় না করলে কোনো হিসাব দিতে হবে না। কেননা নফল আদায় করতে বান্দা বাধ্য নয়। তবে নফল আদায় করলে তা বান্দার পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর জন্য উপহার হিসেবে গণ্য হবে। এতে বান্দা মহান আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হতে পারবে।
রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, শুধু তা দ্বারাই কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। বরং আমার বান্দা সবসময় নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। এমনকি একপর্যায়ে আমি তাকে আমার এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই যে, আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। (এমতাবস্থায়) সে যদি আমার কাছে কিছু চায়, তবে অবশ্যই তাকে তা দান করি। (সহিহ বুখারি ৬০৫৮)
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলু (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সে সঠিক হিসাব দিতে পারে তবে কৃতকার্য হয়ে যাবে। আর যদি ব্যর্থ হয় তবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যাবে। যদি তার ফরজগুলোর মধ্যে কোনো ঘাটতি থাকে তবে আল্লাহতায়ালা বলবেন, দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল আছে কি না? যদি থাকে তবে তা দিয়ে তার ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। অতপর একইভাবে তার অন্যান্য আমলের হিসাব নেওয়া হবে। (সুনানে তিরমিজি ৩৩৭)
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
