ইউরোপিয়ান ফুটবলের বড় মঞ্চে দুর্দান্ত এক রাত কাটালেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেই দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিলেন। তার ঝড়ো পারফরম্যান্সে হার মানে ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু ফুটবলার হিসেবে ভালভার্দে কি সেভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন?
বুধবার রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধেই মাত্র ৪২ মিনিটে তিনটি গোল করেন ভালভার্দে। অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামা এই মিডফিল্ডার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে রিয়ালকে দারুণ শুরু এনে দেন।
গ্যালারিতে বসে ম্যাচটি দেখছিলেন দলের দুই তারকা জুড বেলিংহ্যাম ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ভালভার্দের তৃতীয় গোল দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান বেলিংহ্যাম। আর এমবাপ্পে নিজের আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দেন সেই অসাধারণ গোলের জন্য।
তৃতীয় গোলটি ছিল চোখ ধাঁধানো। সিটি ডিফেন্ডার মার্ক গেহিকে কাটিয়ে বলটি সামনে তুলে দেন ভালভার্দে। এরপর জোরালো ভলিতে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মাকে পরাস্ত করেন।
ম্যাচ শেষে রিয়ালের ডিফেন্ডার ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার–আর্নল্ড বলেন, “লিভারপুলে থাকাকালীন সময় থেকেই আমি তাকে প্রশংসা করে আসছি। আমার মতে, সে পৃথিবীর সবচেয়ে অবমূল্যায়িত ফুটবলারদের একজন। তার সঙ্গে খেললে বোঝা যায়, সে দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
২০১৭ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন ভালভার্দে। প্রথম মৌসুমে তিনি স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো লা করুনায় ধারে খেলেছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন রিয়ালের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা।
উরুগুয়ের রাজধানী মন্তেভিদেওতে বেড়ে ওঠা ভালভার্দে তার কঠিন শৈশবের কথা প্রায়ই উল্লেখ করেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ত্যাগের বিষয়টি আমি সব সময় বলি। আমার বাবা আমাকে সেটা শিখিয়েছেন। অনেক সময় বাবা–মা নিজেরা না খেয়ে আমাকে খেতে দিতেন।”
তিনি আরও বলেন, ছোটবেলায় যেসব মাঠে খেলতেন সেগুলো বেশিরভাগই ছিল মাটির মাঠ। সেখানে অনেক সময় পশু চরানো হতো। সেই কঠিন পরিবেশই তাকে শক্ত মানসিকতার ফুটবলার হতে সাহায্য করেছে।
সাবেক সিটি ডিফেন্ডার নেদুম ওনুওহা মনে করেন, এই ম্যাচে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ভালভার্দেই। তার ভাষায়, “আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই অসাধারণ ছিল সে। আক্রমণে যেমন কার্যকর, তেমনি রক্ষণেও শৃঙ্খলাবদ্ধ।”
রিয়ালের সাবেক উইঙ্গার স্টিভ ম্যাকম্যানামানও প্রশংসা করেছেন তার পারফরম্যান্সের। তিনি বলেন, “সে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এমন রাতে হ্যাটট্রিক সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
এই মৌসুমে রিয়ালের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৯ ম্যাচের মধ্যে ৩৭টিতেই শুরু থেকে খেলেছেন ভালভার্দে। মাঝমাঠের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও খেলতে পারার দক্ষতা তাকে কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অন্যতম ভরসার খেলোয়াড় বানিয়েছে।
বর্তমানে দলের অধিনায়ক দানি কারভাহালের পরে রিয়ালের দ্বিতীয় অধিনায়কও তিনি। মৌসুমজুড়ে ইনজুরির কারণে কখনো কখনো ফুল-ব্যাক পজিশনেও খেলতে হয়েছে তাকে।
ম্যাচের আগের দিন ভালভার্দে বলেছিলেন, “আমি অনেক পজিশনে খেলেছি। কোচ যা বলেন, আমি সেটাই করার চেষ্টা করি। কখনো উইংয়ে, কখনো রক্ষণে—যেখানে দরকার, সেখানেই মানিয়ে নিতে হয়।”
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে সেই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতারই বড় প্রমাণ দিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করে রিয়াল মাদ্রিদকে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে বড় ধাপ এগিয়ে দিলেন ফেদেরিকো ভালভার্দে।
ভালভার্দের হ্যাটট্রিকে ম্যানসিটিকে চুরমার করল রিয়াল মাদ্রিদ
পাকিস্তানি বোলারদের ‘দুম্বার মতো মেরেছে’ তামিমরা: মোহাম্মদ আমির
যুদ্ধের মাঝেও ইরানকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র: ফিফা প্রেসিডেন্ট
'নেইমার' হয়ে বেঁচে থাকাটা সত্যিই খুব জটিল