ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তোড়জোড়

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১২ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব গঠন নিয়ে দলীয় অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রত্যাশা বাড়ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

দলীয় সূত্র বলছে, যেকোনো সময় নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন নেতাদের তৎপরতাও চোখে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংগঠনের ভেতরে-বাইরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।

দলীয় সূত্র জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে পরামর্শ ও আলোচনা চলছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে কয়েকজন নেতার নাম জোরালোভাবে সামনে এসেছে। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ভূমিকা রাখা নেতাদেরই নতুন কমিটিতে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসবেন, সেই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ছাত্রদলের কমিটি ভাঙার আলোচনা থাকলেও বিএনপির নির্বাচনী বিজয়ের পর পদপ্রত্যাশী নেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শোডাউন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল এবং দলীয় কর্মসূচি আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আলোচনায় যারা : ছাত্রদলের আসন্ন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৯-১০ থেকে ২০১১-১২ সেশনের মধ্যেই নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সংগঠনকে আরও গতিশীল রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ বাড়াতে তুলনামূলক জুনিয়র কাউকে সাধারণ সম্পাদক পদে আনার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

২০০৮-০৯ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল। এ ছাড়া একই সেশনের মনজরুল আলম রিয়াদ ও শাফি ইসলাম আলোচনায় আছেন।

২০০৯-১০ সেশন থেকে নেতৃত্বের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদুল হাসান রনি, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শরিফ প্রধান শুভ ও মাসুদুর রহমান মাসুদ।

এদিকে ২০১০-১১ সেশনের নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি শাখা সভাপতি গণেশ চন্দ্র রয় সাহস, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, মাসুম বিল্লাহ ও ঢাবি শাখার এক নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক।

এ ছাড়া ২০১১-১২ সেশনের নেতাদের মধ্য থেকেও অনেক আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ঢাবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন শাওন, জাহিদ হাসান শাকিল, রাজু আহমেদ, প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রনি, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম কাজল, ঢাবি ছাত্রদলের এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক শামিম আকতার শুভ ও সাংগঠনিক সম্পাদক নূর আলম ভূঁইয়া ইমন।

আলোচনায় থাকা নেতারা বলেন, নতুন কমিটি গঠন একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখা নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা যাবে। সংগঠনের সাংগঠনিক অভিভাবক চাইলে যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব।

তারা বলেন, দুই বছর মেয়াদি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি। সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে নেতৃত্বের নবায়ন প্রয়োজন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।

এর আগে ২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাত সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটিও অনুমোদন করা হয়। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় সম্ভাব্য নেতৃত্ব : ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের এবারের নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় মূলত ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৫-১৬ সেশনের নেতারা।

২০১৩-১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান ও ইমাম আল নাসের মিশুক। ২০১৪-১৫ সেশন থেকে বিএম কাউসার, সাইফ খান আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৫-১৬ সেশন থেকে রয়েছেন ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী, বজলুর রহমান বিজয়, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও মিনহাজুল ইসলাম নয়ন।

১৬-১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান ও ঢাবি শাখার প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান।

অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নবীন সেশন হিসেবেও ২০১৭-১৮ সেশন থেকে কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। তাদের মধ্যে ঢাবি ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ইমন ইসলাম, সাইফ চৌধুরী আলোচনায় রয়েছেন।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের আগামী কমিটি কীভাবে গঠিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অতীতের কমিটি গঠনের ধারা অনুসরণ করলে কিছুটা ধারণা করা যায়। যদিও এবারের প্রক্রিয়া আগের মতো নাও হতে পারে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে উপস্থিত থাকায় নতুন কমিটি গঠনে তার সরাসরি ভূমিকা থাকবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় মেধাবী, সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ছাত্রনেতাদের নিয়ে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত