মুহাম্মদ রাজের জন্ম ও বেড়ে ওঠা একটি ব্রাহ্মণ পরিবারের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে। সময়ের পরিক্রমায় আজ তিনি ইসলামের একজন নিবেদিতপ্রাণ দাঈ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মী হিসেবে পরিচিত। ইসলাম গ্রহণের পর জীবনের নানা পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তিনি আজ লাখো অসহায় মানুষের ভরসার স্থানে পরিণত হয়েছেন।
বর্তমানে তিনি সরকারি নিবন্ধনভুক্ত জাতীয় মানবিক সেবা সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর অব ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যাফেয়ার্স হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ও সুদানের মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয় ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে তিনি তার টিমসহ মিসর সফরে রয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। একই বছরের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে সেখানে তৈরি হয় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানবিক সংকট। সেই সময় থেকেই মুহাম্মদ রাজ ও তার টিম হাফেজ্জী গাজা ও সুদানে ধারাবাহিকভাবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গাজা উপত্যকা এবং মিসরের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সহায়তা এবং নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
এই কার্যক্রমের দ্বারা মুহাম্মদ রাজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানবিক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। গাজার ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা টিম হাফেজ্জীর কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করেছে। তার উদ্যোগে আল-জাজিরার ক্যামেরায় অত্যাচারিত মানুষের হাতে এবং পবিত্র জেরুজালেমের মাটিতে উড়তে দেখা গেছে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা।
তার এই মানবিক কার্যক্রম ফিলিস্তিন টিভি, বিবিসিসহ বাংলাদেশ, মিসর ও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুহাম্মদ রাজ, টিম হাফেজ্জী এবং বাংলাদেশের নামকে আরও পরিচিত করে তুলেছে।
মিসর সফরকালে মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কায়রোতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মিসরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত দিয়াব আল-লুহ, সুদানের রাষ্ট্রদূত, ইজিপশিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. আমাল এমাম, জর্দানে ফিলিস্তিনের অ্যাক্টিং অ্যাম্বাসেডরসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক।
এ ছাড়াও তিনি ইজিপশিয়ান ইউথ কাউন্সিলের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মামদুহ এবং মিসরে ফিলিস্তিনের মানবিক বিভাগের প্রধান মিস জিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরাও এসব আলোচনায় অংশ নেন এবং মুহাম্মদ রাজ ও টিম হাফেজ্জীর মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
শুধু গাজা বা সুদানেই নয়, গত দুই বছরে মুহাম্মদ রাজ ও তার টিম আফগানিস্তান, নেপাল ও জর্দানেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি নাইজেরিয়ার দরিদ্র মানুষের কাছেও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
বাংলাদেশের ভেতরেও তার মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ‘জান্নাতের খোঁজে’ প্রকল্পের আওতায় তিন শতাধিক দরিদ্র রোগীর ব্যয়বহুল অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় লক্ষাধিক রোগীর মাঝে কোটি টাকার ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।
সাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় হাজার হাজার বেকার ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে গবাদিপশু, সেলাই মেশিন এবং অটোরিকশা বিতরণ করা হয়েছে। নলকূপ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ২৫০টি নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে, যাতে মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পায়।
এ ছাড়া উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ১২টি মক্তব প্রতিষ্ঠা, শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে ১ লাখ ২২ হাজার কম্বল বিতরণ এবং দুর্যোগকালীন সহায়তায় ১ লাখ ৬৩ হাজার মানুষকে জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি একজন সুলেখকও। ইসলাম, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লেখা বই ‘থটস অব রাজ’ পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসামান্য মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৪, কায়রোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাবিনা নাজ-এর হাত থেকে প্রাপ্ত সম্মাননা, গ্লোবাল বিজনেস অ্যান্ড সিএসআর অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ এবং কাঠমান্ডুতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও মন্ত্রী বারদী প্রসাদ-এর হাত থেকে প্রাপ্ত নেপাল-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড।
অর্জনের পরও মুহাম্মদ রাজ তার বিনয়ী ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত। তবে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও অবিচল। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে তিনি দেশের বিশিষ্ট আলেমদের পরামর্শ অনুসরণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আরেফ বিল্লাহ মুফতি জাফর আহমদ (পীর সাহেব ঢালকানগর) এবং বেফাক বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক।
তাদের তত্ত্বাবধান ও পরামর্শেই পরিচালিত হয় হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ।
