জমে উঠেছে পটুয়াখালীর ঈদবাজার

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:০৬ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠেছে পটুয়াখালীর ঈদবাজার। বিপণিবিতানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের সমাগম। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মার্কেটের পাশাপাশি এলাকার অলিগলির দোকান ও ফুটপাতেও চলছে পুরোদমে কেনাকাটা। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও ঈদসামগ্রীর দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এবার বিক্রি বেশি। উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ কেনাকাটা করছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে পটুয়াখালী শহরের নিউ মার্কেট, বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেট, এসপি কমপ্লেক্স, সদর রোড, লঞ্চঘাট এলাকা, পুরান বাজার, আনিসা বুটিকসহ বিভিন্ন মার্কেট ও ব্র্যান্ডের শোরুম আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো শহরে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

নিউ মার্কেট ও বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেটে নারী ও শিশুদের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। সবুজবাগ এলাকায় এসপি কমপ্লেক্সে আধুনিক ডিজাইনের থ্রি-পিস, গাউনের চাহিদা বেশি, সদর রোড ও লঞ্চঘাট এলাকার ফুটপাতের দোকানে স্বল্পমূল্যের পোশাক কিনতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়, পুরান বাজার এলাকায় শাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের দোকানে বিক্রি বেশি। এ ছাড়া ব্র্যান্ডের শোরুমগুলোতে তরুণ-তরুণীদের আধুনিক পোশাকের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে স্বর্ণের দাম অনেক বেশি হওয়ায় জুয়েলারির দোকানগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে।

মেয়েদের পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি। ভারতীয় ও পাকিস্তানি ডিজাইনের থ্রি-পিস, গাউন ও লেহেঙ্গার চাহিদা বেশি থাকলেও দেশি পোশাকেরও ভালো বাজার রয়েছে। শাড়ির মধ্যে টাঙ্গাইলের শাড়ি, তাঁতের শাড়ি এবং জামদানি শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

শহরের আরাফাত সুপার কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম দুলাল বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম ছিল। তবে ১৫ রমজানের পর বাজার জমে উঠেছে। ঈদের আগে এই সপ্তাহে বিক্রি আরও বাড়ছে।’

আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, বেতন ও ঈদ বোনাস হাতে পেলে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এসপি কমপ্লেক্সের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পাইকারি বাজারে পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে। পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় এবারের ঈদ মৌসুমে পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি।

ক্রেতাদের অনেকেই অভিযোগ করছেন, গত বছরের তুলনায় এবার জামা-কাপড়ের দাম বেশ বেড়েছে। ফলে বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেককে একাধিক মার্কেট ঘুরতে হচ্ছে।

পরিবারের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে আসা ছকিনা আক্তার রুনা বলেন, ‘বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছি না। এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ঘুরেও অনেক পোশাকের দাম বেশি লাগছে।’ ক্রেতা সাবরিন জাহান বলেন, ‘আমাদের পরিবারে আটজন সদস্য। সবার জন্য ঈদের পোশাক কিনতে গিয়ে আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে।’

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর থ্রি-পিস ১ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, গাউন/ফ্যাশনেবল ড্রেস ২ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা, টাঙ্গাইল শাড়ি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, জামদানি শাড়ি ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা, শিশুদের পোশাক ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পটুয়াখালী শহর বস্ত্র কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মতি মিয়া বলেন, ‘রমজানের শুরুতে বাজার কিছুটা ধীরগতির ছিল। তবে ১৫ রমজানের পর থেকে ক্রেতা বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগের কয়েক দিনে বাজার আরও জমজমাট হবে বলে আশা করছি।’

এদিকে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট ও জনবহুল এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। টহল জোরদার করার পাশাপাশি মার্কেট এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ জানান, ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট ও জনসমাগমস্থলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাতে ক্রেতারা নির্বিঘেœ কেনাকাটা করতে পারেন সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সব মিলিয়ে ক্রেতাদের ভিড়, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবং বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে পটুয়াখালীর ঈদ বাজার এখন পুরোপুরি জমজমাট। ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের কোলাহল ও কেনাকাটার ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত