বেতন-ভাতা পেয়েছেন প্রায় শতভাগ শ্রমিক

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১২ এএম

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত প্রায় শতভাগ শ্রমিক কর্মচারীরা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদের ভাতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতি চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি প্রভৃতি চাপের মধ্যে থেকেও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা নিজস্ব দায়বদ্ধতা ও সরকারের সহায়তায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন করেছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

এ সময় বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক কাজী মিজানুর রহমান, পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক রুমানা রশীদ, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল, পরিচালক সামিহা আজিম এবং বিজিএমইএর জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির ও ওয়ান স্টপ সেলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের বহুমুখী সংকটের মধ্যে থেকেও বিজিএমইএ সদস্যরা শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাদের বেতন, ভাতা, উৎসব বোনাস পরিশোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যার ফলে শ্রমিক ভাই-বোনেরা আইনসম্মত পাওনা বুঝে পেয়েছেন এবং শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান শিল্পবান্ধব ও শ্রমবান্ধব সরকার কর্তৃক শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে ২৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা এই পদক্ষেপগুলো পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয় যে, বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট হাতেগোনা কয়েকটি কারখানার পাওনা পরিশোধ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা আজকের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এছাড়া কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কারখানা মানবিক বিবেচনায় মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম হিসেবে শ্রমিকদের প্রদান করেছে। মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি প্রদান করা হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে এবং আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি প্রদান করবে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ দশমিক এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনো নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব সরকারের বিশেষ নির্দেশনার কারণে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আমরা কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮ থেকে ২০ দিনের মাথায় পোশাক শিল্পের বিদ্যমান সংকটগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সরকারের এই দূরদর্শী ও শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের কারণেই আজ শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং শ্রমিক ভাই-বোনেরা তাদের আইনসম্মত পাওনা বুঝে পাচ্ছেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাননীয় গভর্নর ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত