তিস্তায় পাথর উত্তোলনে বাধা, ইউপি চেয়ারম্যান-পুলিশের ওপর হামলা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যসহ প্রায় ১৭ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বখড়িবাড়ি তিস্তা পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন, ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির আফসার আলি, টেপাখরিবাড়ী এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন, লোকমান, পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলাম ও ঠাকুরদাস প্রায় ১৭ জনকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এদিকে ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে বোমা মেশিন লাগিয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছেন। এতে এলাকার নদী বাঁধ এবং রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসনের একাধিকবার অভিযানের পরও কোনোভাবে থামানো যাচ্ছিল না এই চক্রটিকে। এতে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নদী থেকে পাথর উত্তোলনে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন। আজকে সকালের দিকে চক্রটি নদী থেকে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। সেটি জানার পরে চেয়ারম্যান কয়েকজন গ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় পাথর উত্তোলনকারী চক্রের সদস্যরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করেন। এতে চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশ গুরুতর আহত হন। পরে থানা পুলিশ ও সাংবাদিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় চক্রের সদস্যরা। এ সময় তিনজন পুলিশ আহত হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক চেয়ারম্যানসহ ৭ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের সাবেক আমির আফসার আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। আজকে সেখানে চেয়ারম্যান তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে যায়, সেখানে আমিও ছিলাম। কিন্তু চক্রের সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা চালালে এতে ইউপি চেয়ারম্যান, আমিসহ অনেকে আহত হয়েছে।

ডিমলা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক পরিতোষ রায় বলেন, তিস্তা নদীতে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপরও হামলাকারীরা হামলা চালায়। এতে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা করে হামলাকারীরা।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তা নদী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা এসেছেন। হামলাকারীদের আটক করতে অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত