নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি পাথর উত্তোলন কাজে ব্যবহৃত বোমা মেশিনসহ সকল সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করেছে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি দল।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত থেকে শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিমলার তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫১ বিজিবি রংপুর ৬৩ জন, পুলিশের ৪০ জন ও আনসার বাহিনীর ১০ জন সদস্য অংশ নেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছিল। সেটি বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালালেও প্রভাবশালী চক্রটি তা বন্ধ করেনি। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ( ১৯ মার্চ) সকালে ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে নিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে যায়। এ সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী বোমা মেশিনের মালিকদের সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে ডিমলা থানা পুলিশ এবং সাংবাদিক গেলে তাদেরও ওপর হামলা করে সন্ত্রাসীবাহিনীরা। এমন কি পুলিশের গাড়ী ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান, ৭ জন পুলিশ সদস্যসহ ১৭ জন আহত হন।
অপরদিকে শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিস্তা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬টি বোমা মেশিন, ৬টি পাইপ, ৩০০টি প্লাস্টিক ড্রাম এবং ১৯টি পাথর উত্তোলনের লোহার ছাকনিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে বিনষ্ট করে প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিমলা ইউএনও মোহাম্মদ ইমরানুজ্জামান, ৫১ বিজিবির উপ অধিনায়ক এ এফ এম জুলকার নাঈম, ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী।
ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে, গ্রাম পুলিশ, থানা পুলিশের সদস্য, সাংবাদিক সবার ওপর পাথর উত্তোলনকারীরা হামলা চালায়। পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে এতে ১৭ জন আহত হয়৷ পরে ঘটনার রাতে থানায় পৃথক ৪টি মামলা হয়েছে এবং ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করছি।
৫১ বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈম দেশ রূপান্তরকে জানান, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ও ৫১ বিজিবি রংপুর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সেলিম আলদীনের যৌথ আলোচনার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্য ও ডিমলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে তিস্তা নদীতে অবৈধ বোমা মেশিন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ধ্বংস করা হয়। এমন অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো ইমরানুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকালের ঘটনার পর আজকে বিজিবি, পুলিশ সবার সহায়তায় তিস্তার চরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাথর উত্তোলনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। তিস্তা নদী হতে পাথর উত্তোলন বন্ধে সকল ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
