নীলফামারীতে টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, পরিবহন চালক। বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে চাষাবাদে সেচ প্রকল্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে পাম্পে জ্বালানি না মিললেও খোলা বাজারে চড়া দামে এসব জ্বালানি সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ নোটিশ ঝুলছে। কোথাও সীমিত পরিমাণে সরবরাহ এলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক গ্রাহক জ্বালানি পাচ্ছেন না। অথচ হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে পেট্রোল লিটার প্রতি ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। বর্তমানে সরকারি দামে পেট্রোল ১১৬ টাকা ও অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু পাম্প মালিক সরাসরি গ্রাহকদের না দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করছেন। পরে তারা মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
মোটরসাইকেল চালক হাসান আলী বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত তেল পাচ্ছি না। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, কিন্তু বাইরে বেশি দামে সহজেই পাওয়া যায়।
জলঢাকার খুটামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিজেন্দ্রলাল জানান, পাম্প বন্ধ থাকায় তিনি মোটরসাইকেল ঠেলে টেঙ্গনমারী বাজারে গিয়ে খোলাবাজার থেকে ২ লিটার পেট্রোল ৫০০ টাকা করে কিনতে বাধ্য হয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি। তবে প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এই সিন্ডিকেট সামনে লিটার প্রতি এক হাজার টাকা করে বিক্রি করবে।
জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। চলমান সেচ মৌসুমে ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, তেল না পাওয়ায় জমিতে সেচ দিতে পারছি না, এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
একাধিক ট্রাক ও বাস চালক জানান, পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে বেশি দামে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে, ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাম্প মালিকরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মেসার্স মোজাম্মেল অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক বলেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
প্রশাসন জানায়, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে কিশোরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, অবৈধভাবে তেল মজুত করলে অভিযান চালানো হবে।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) সায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, ফিলিং স্টেশনগুলো নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং খোলা বাজারে অবৈধ বিক্রি বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
