সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৯ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা পরিবার পরিজনসহ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল শ্রেণিকে দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এর আগে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তারা সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা এবং কুশল বিনিময় করেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী।

সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঈদে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে রহমত চাই যেন আল্লাহ আমাদের সেই রহমত দেন যাতে করে দেশের মানুষের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি। আজকের এই ঈদের দিনে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাব, আপনাদের সহযোগিতা থাকলে এই নির্বাচিত সরকার আপনাদের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এ সময় ১৯৭১ সালের বীর শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদ ও গণতন্ত্রের যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। দলমত নির্বিশেষে সব মানুষ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বহু বছর পরে আল্লাহর ইচ্ছায় বাংলাদেশের মানুষের দোয়ায় আমি এবং আমার পরিবার দেশের মানুষের সঙ্গে ঈদ পালন করছি, তার জন্য প্রথমেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তিনি আমাদের সেই রহমত দেন এই ঈদে বাংলাদেশের মানুষ যতটা নির্বিঘেœ বা যতটা শান্তিতে ঈদ উদযাপন করতে সক্ষম হয়েছে ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতের ঈদগুলোতে যেন আরও বেশি শান্তিপূর্ণভাবে আমরা ঈদ উদযাপন করতে পারি, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া-সহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা একে একে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

পরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ কমিশনাররা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, বিজিবি প্রধান, পুলিশ প্রধানসহ সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পেশা নাগরিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঈদের দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন যমুনা প্রাঙ্গণে। জনস্রোত বিস্তৃত হয়ে তা পৌঁছায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আর পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে যমুনা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত হওয়ায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা অনেকে যমুনায় প্রবেশ করতে পারেননি।

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত : যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দুপুরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান, তার দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারেক রহমান মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত করেন।

এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সময়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংসদ মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে গুলশানের বাসায় ফেরার পথে জাহাঙ্গীর গেটে গাড়ি থামিয়ে, গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যরত সেনা, নৌ, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখান থেকে বাসায় ফিরে দুপুরে খালা-খালু,-মামা-মামীসহ নিকট স্বজনদের নিয়ে দুপুরের খাবার খান। তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন।

ফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় : এরপর তিনি বাসায়ই ছিলেন। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান, মোকাররম হোসাইন, আনিস আলমগীরসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। ফোনালাপের বিষয়ে আনিস আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছি তিনি ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন সে জন্য। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতের নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।’

ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে টানা ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী : পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হতেই অফিস শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। ছুটি শেষে গতকাল প্রথম কর্মদিবসেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে তিনি অফিস ত্যাগ করেন। অফিসে এসেই প্রধানমন্ত্রী একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দুপুরে প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। পরে ঢাকার যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিকেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ, বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল পর্যালোচনা এবং প্রশাসনিক কাজ করেন। রাত ৮টার দিকে সচিবালয় ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত