বিশাল এই মহাবিশ্বের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে মহান আল্লাহর অসীম মহিমা। তবে এই সৃষ্টিজগতের মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও নিপুণ সৃষ্টি হলো মানুষ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে।’ (সুরা তীন ৪) মানুষের এই নিপুণতা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়, বরং শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা এবং আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের এক অপূর্ব সমন্বয়। মানুষের নিপুণ সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত বিবরণী উল্লেখ করা হলো।
বিস্ময়কর শারীরিক গঠন : মানুষের শরীর একটি জটিল ও সুসংগঠিত যন্ত্রের মতো, যার প্রতিটি অংশ সুপরিকল্পিত। মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় ১০০ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে। এটি বিশ্বের যেকোনো সুপার কম্পিউটারের চেয়েও দ্রুত এবং জটিল তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। একজন সুস্থ মানুষের হৃদপিণ্ড প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ বার স্পন্দিত হয় এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে। এই নিরবচ্ছিন্ন সেবা আল্লাহর কুদরত ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা ডিএনএর মধ্যে জীবনের সব নকশা লুকানো থাকে। বিজ্ঞানীদের মতে, একজনের শরীরের সব ডিএনএ খুলে যদি জোড়া দেওয়া হয়, তবে তা পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত কয়েকবার ঘুরে আসতে পারবে।
পঞ্চেন্দ্রিয়ের নিখুঁত ব্যবহার : মহান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন দেখার জন্য চোখ, শোনার জন্য কান, ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য নাক এবং অনুভবের জন্য ত্বক। মানুষের চোখ প্রায় ১০ মিলিয়ন ভিন্ন ভিন্ন রঙ শনাক্ত করতে পারে। এর লেন্সের ফোকাস করার ক্ষমতা কৃত্রিম যেকোনো ক্যামেরার চেয়ে উন্নত। মানুষের ত্বক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্পর্শের মাধ্যমে বাইরের জগৎকে চিনতে সাহায্য করে।
বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তি : সৃষ্টির অন্যান্য জীবজন্তু থেকে মানুষকে আলাদা করার প্রধান মাধ্যম হলো বিবেক। মহান আল্লাহ মানুষকে চিন্তা করার ক্ষমতা দিয়েছেন। মানুষই একমাত্র সৃষ্টি, যে আকাশ জয় করেছে, সমুদ্রের তলদেশ উন্মোচন করেছে এবং বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটিয়েছে। এই সৃজনশীলতা মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।
কথা বলার ক্ষমতা : মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষার ব্যবহার করতে পারে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘দয়াময় আল্লাহ। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষকে এবং তাকে শিক্ষা দিয়েছেন ভাষা।’ (সুরা আর-রহমান ১-৪)
বৈচিত্র্য ও স্বাতন্ত্র্য : পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মধ্যে প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একজনের আঙুলের ছাপের সঙ্গে অন্যজনের মিল নেই। মহান আল্লাহ কোরআন মাজিদে এই সূক্ষ্ম নিপুণতার ইঙ্গিত দিয়েছেন ১৪০০ বছর আগে। (সুরা কিয়ামাহ ৪) প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর এবং ডিএনএ কোড স্বতন্ত্র, যা আল্লাহর অসীম কারুকার্যের প্রমাণ দেয়।
লেখক : শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক
