ঋণের বোঝা বাড়াবে না সরকার

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:১৭ এএম

সরকার আগের মতো দেশি-বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়াবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে সামাজিক সুরক্ষার জন্য অর্থায়ন স্থানীয় রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে রাজস্ব আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিতুমীর। এ সময় এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ আর অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তিতুমীর বলেন, ‘সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থায়ন দেশের নিজস্ব রাজস্ব থেকেই নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ কীভাবে রাজস্ব আয় বাড়বে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিতুমীর বলেন, ‘করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং কর ফাঁকি ও জালিয়াতি রোধ, কর ছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে। এ লক্ষ্যে তিনটি টাস্কফোর্স দিনরাত কাজ করছে। আগে গোষ্ঠীতান্ত্রিক কর সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এখন কর্মকর্তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। অপচয় কমানো হবে।’

নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এই আমলে কর জিডিপির অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘এত কম কর আদায় নিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, কোনো দেশই চলতে পারে না। তাই বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হলে জিডিপির হিসাব স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত করতে হবে। অতীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানোর যে প্রবণতা ছিল, তা সংশোধনে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।’’

বিএনপি সরকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছে অভিযোগ করে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘বিগত সময়ে রাজস্ব আয়ের গোঁজামিলের হিসাব দেওয়া হতো। এখন আইবাসের নতুন সংস্করণের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে (রিয়েলটাইম) তথ্য পাওয়া যাবে। কর আহরণে ডিজিটাল সংস্কার ও অটোমেশন জোরদার করা হচ্ছে। আইবাস প্লাস সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে কর ফাঁকি কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিডিপির প্রকৃত চিত্র এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলেই অর্থনৈতিক সংস্কারের বাস্তব ফল পাওয়া যাবে।’ 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রধান দায়িত্ব সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের জন্যও সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’ অন্তর্বর্তী সরকার তেল-গ্যাসের দাম বাড়ালেও বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতির চিন্তা করে বাড়াবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কারণে বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ কমানো এবং সামগ্রিক সম্পদ বৃদ্ধি এই তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ 

আরেক প্রশ্নের জবাবে এনবিআরকে দুই ভাগ করার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে সামনে এগোনো হবে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত