বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় পরিবেশ নিশ্চিত করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও ইপিএ নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ^বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বৈঠকের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান কু।
বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন সরকারের দূরদর্শী বাণিজ্যনীতি, বাজার বহুমুখীকরণ কৌশল, নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ ও ইপিএ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে এবং কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এফটিএ ও সিইপিএ নিয়ে আলোচনা করছে। এ ছাড়া দেশের ভৌগোলিক সুবিধা ও বৃহৎ ভোক্তা বাজারকে কাজে লাগিয়ে রিজিওনাল কমপ্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগদানে বাংলাদেশের আগ্রহ রয়েছে, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
বাংলাদেশে বিশেষ করে, তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী কোরীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেন।
তিনি শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং চলমান এফটিএ আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ইপিএকে একটি কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচনা করার কথাও উল্লেখ করেন।
বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় কম উল্লেখ করে কোরীয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাহাজ নির্মাণ, ইস্পাত, উৎপাদন, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে, রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে উভয় পক্ষ মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। বৈঠক শেষে দুই দেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
