এসআইবিএল পুনরুদ্ধারে ৮ বছর সময় প্রয়োজন

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

পরিকল্পিত অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সাত থেকে আট বছরে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) গুরুতর সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক এবং সাবেক চেয়ারম্যান মেজর ডা. রেজাউল হক (অব.)। তার দাবি, একসময় লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি এখন বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা বইছে। এর পুনরুদ্ধারের জন্য অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় এসআইবিএলকে একীভূত প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ‘উদ্যোক্তা ও সাধারণ বিনিয়োগকারী, গ্রাহক এবং শুভানুধ্যায়ীরা’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেজাউল হকের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল হকে বলেন, ‘গত দেড় বছরে যারা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের কর্মকা-ে ব্যাংকটি আরও সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে শেয়ার শূন্যে নামিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং এস আলম গ্রুপের দুর্নীতির দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো হয়েছে। কিন্তু সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য জানা থাকার পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো কর্মকর্তা বা ব্যাংকারের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলে তারা ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করছেন না।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে জোর করে সই করিয়ে ব্যাংকের মালিকানা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। জীবননাশের ভয়ে তখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উদ্যোক্তাদের আশা ছিল অতীতের লুটপাট বন্ধ করে ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের অসহযোগিতার কারণে ব্যাংকটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারদের পাশ কাটিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। গত দেড় বছরে তারা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করতে পারেননি।’

মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুদ্ধারে অন্তত আট বছর সময় দেওয়া প্রয়োজন। এক দিনে এত বড় দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আইডিবিসহ কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংকটিতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থ ছাপানো ছাড়াই পর্যাপ্ত সময় পেলে ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থাও ব্যাংকের স্বার্থরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে এবং লুটপাটের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। তাই তারা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ব্যাংকটিকে মার্জার প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ব্যাংক রেগুলেশন অ্যাক্ট ২০২৫ পাস না করারও দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত