দেশের শেভিং ব্লেডের বাজারে চোরাই পণ্যের দাপট ক্রমেই বাড়ছে। চোরাই ব্লেডে সয়লাব পাইকারি ও খুচরা বাজার। স্থানীয় উৎপাদনকারী শিল্পগুলোর দাবি, এর ফলে একদিকে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।
স্থানীয় শিল্পগুলো বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘জিলেট’ বাংলাদেশে তাদের অফিশিয়াল সরবরাহ কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। তবে ব্র্যান্ডটির নাম ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ থেকে চোরাই পথে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ব্লেড দেশে প্রবেশ করছে। পাইকারি ও খুচরা দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এই ব্র্যান্ডের পণ্য। প্রকাশ্যেই চোরাই ব্লেড বিক্রি হলেও কার্যকর তদারকির ঘাটতি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্লেড উৎপাদনকারী দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগের প্রধান অভিযোগ করেন, ‘গবেষণা অনুযায়ী দেশের কসমেটিকস বাজারের আকার প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শেভিং পণ্যের বাজার ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তবে বাজারের প্রায় অর্ধেকই অবৈধ পণ্যের দখলে।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ পথে এসব পণ্য দেশে আসার কারণে সরকার প্রতিবছর কয়েকশ’ কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। শেভিং ও কসমেটিকস পণ্যে উচ্চ হারে শুল্ক ও ভ্যাট থাকলেও চোরাই পণ্য কোনো কর ছাড়াই বাজারে বিক্রি হচ্ছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে হিমশিম খাচ্ছে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।
মেটাডোরের বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মোফাজ্জল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারগুলো চোরাই পণ্যে ভরে গেছে। ফলে দেশে ভালো পণ্য উৎপাদন হলেও সেগুলোর বাজারজাত কষ্টকর হয়েছে। আবার উৎপাদন খরচ বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। কারণ, অবৈধ পথে আসা পণ্যগুলো খুবই কম দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এই অবস্থায় স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান জরুরি।
