ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। গত শুক্রবার সংস্থাটির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, বিশ^ বাজারে খাদ্যপণ্যের মাসিক দাম পরিবর্তনের সূচক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে অস্থিরতা চলমান থাকলে সামনের দিনগুলোতে খাদ্য আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খাদ্য সূচকের মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পণ্যটি ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলার কারণে গম ও ভুট্টার বাজার পরিস্থিতির বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে এফএও। সংস্থাটি মনে করে, যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে হলেও এর চরম মূল্য দিতে হচ্ছে হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ কৃষকদের। সার সরবরাহ ও জ্বালানি সংকটের কারণে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের কোটি কোটি কৃষক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
এক বিবৃতিতে এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো বলেন, ‘যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দামের বৃদ্ধি এখন পর্যন্ত পরিমিত পর্যায়ে রয়েছে। মূলত তেলের দাম বাড়ায় এটি হয়েছে, তবে বিশ্বজুড়ে শস্যের পর্যাপ্ত মজুদ এই ধাক্কা সামাল দিচ্ছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই লড়াই যদি ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং সারের চড়া দাম অব্যাহত থাকে, তবে কৃষকদের তিনটি কঠিন পথের একটি বেছে নিতে হবে। সেটি হবে ‘হয় কম উপকরণ নিয়ে চাষ করা, অথবা চাষের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া, নয়তো কম সার প্রয়োজন এমন ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতের ফলনে প্রভাব ফেলবে এবং চলতি বছরের বাকি সময়সহ আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও পণ্যের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।’
