পবিত্র কোরআন আমাদের জীবন বিধান। জাগতিক জটিলতার সহজ সমাধান লুকিয়ে আছে এর প্রতিটি ছত্রে। যখন চারপাশের কোলাহল আমাদের ক্লান্ত করে তোলে, তখন কোরআনের শ্বাশত বাণীগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃত গন্তব্যের কথা। সুন্দর ও অর্থবহ জীবন গড়তে কোরআন আমাদের সঠিক পথ দেখায়। কোরআনের চারটি অমূল্য উপদেশ মেনে চললে আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে শৃঙ্খলা ও শান্তি ফিরে আসবে। তা উল্লেখ করা হলো।
প্রথমত, সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর অভিমুখী হওয়া। মানুষ যখন চারপাশের কোলাহলে নিজেকে একা অনুভব করে অথবা সমস্যার ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে, তখন তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল হলেন মহান আল্লাহ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন আমার বান্দারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিই, যখন সে আমাকে ডাকে।’ (সুরা বাকারা ১৮৬)
এই নির্ভরতা আমাদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে। আমরা বুঝতে পারি, কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই সরাসরি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া যায়। এই সংযোগ আমাদের একাকিত্ব দূর করে এবং যে কোনো কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকার শক্তি জোগায়।
দ্বিতীয়ত, সুন্দর আচরণ ও কথাবার্তায় কোমলতা প্রদর্শন করা। সমাজ জীবনে মানুষের সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক দয়া ও সদাচরণের ওপর। অনেক সময় আমরা কাউকে সাহায্য করি, কিন্তু সেই সাহায্যের পর তার মনে কষ্ট দিয়ে ফেলি। ইরশাদ হয়েছে, ‘উত্তম কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন শ্রেয়, যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় তার চেয়ে। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, সহনশীল।’ (সুরা বাকারা ২৬৩)
এটি আমাদের শেখায়, বড় বড় দান-সদকার চেয়েও একটি হাসিমাখা মুখ এবং নম্র বাক্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
তৃতীয়ত, অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ এবং পরনিন্দা থেকে দূরে থাকা। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় গিবত বা অন্যের সমালোচনা একটি সংক্রামক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, যা সম্পর্কের ভিত ধসিয়ে দেয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান কোরো না এবং একে অপরের গিবত কোরো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাকো।’ (সুরা হুজুরাত ১২)
চতুর্থত, জীবনের পরীক্ষাকে সহজভাবে গ্রহণের মানসিকতা তৈরি করা। বিশ্বাসীদের জীবনে বিপদ আসা মানেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নয়, বরং এটি বিশ্বাসের গভীরতা মাপার মানদণ্ড। ইরশাদ হয়েছে, ‘‘মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ইমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না?’’ (সুরা আনকাবুত ২) এই উপলব্ধি আমাদের প্রতিকূল সময়ে ধৈর্য ধারণ করতে শেখায়। জীবনের চড়াই-উতরাইকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষা হিসেবে দেখলে দুশ্চিন্তা অনেক কমে যায়। এই বিশ্বাস আমাদের মনে প্রশান্তি আনে।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
