হাওরাঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি নজরে রাখার পাশাপাশি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর (ফসল কাটার যন্ত্র) যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুত রাখা হয় এবং যেগুলো অচল সেগুলো দ্রুত সচল করতে হবে। একইসঙ্গে হার্ভেস্টর চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় তেলের কোনো সংকট হবে না বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।
গতকাল রবিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে হাওরাঞ্চলের বোরো ধানের আবাদ, উৎপাদন ও কর্তনের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে সভায় হাওরাঞ্চলের জেলাসমূহের মাঠ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।
জানা যায়, হাওরে বিপুল পরিমাণে বোরো ধানের আবাদ হয় এবং এই ফসল ঘরে তোলার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে প্রতিবছরই সতর্ক থাকতে হয়, নিতে হয় বাড়তি পদক্ষেপ। কারণ যে কোনো সময় অতিবৃষ্টি, বন্যার মতো ঘটনা হাওরের উৎপাদন ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। এ বছর হাওরাঞ্চলে ৭ থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।
সভায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ধান কাটার কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর যেন যথাসময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। অচল যন্ত্রগুলো দ্রুত সচলের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে ভাড়ায় হার্ভেস্টর এনে সময়মতো ধান কাটা সম্পন্ন করতে হবে। ধান কাটার সময়ে হার্ভেস্টরের প্রয়োজনীয় তেলের সমস্যা হবে না। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আমিন উর রশিদ বলেন, হাওরাঞ্চলের আবহাওয়ার পরিস্থিতি নজরে রাখত হবে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে। হার্ভেস্টরের পাশাপাশি কৃষি শ্রমিকের মাধ্যমেও ধান কাটার ব্যবস্থা রাখাতে হবে।
হাওরাঞ্চল দেশের ফসল ভান্ডার উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, হাওরাঞ্চলের ধান যেন নষ্ট না হয়। এ অঞ্চলের ধান কাটা নির্বিঘœ করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, হাওরভুক্ত মোট ৭টি জেলায় এবারে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। এর মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরে ইতিমধ্যেই অল্প পরিসরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জের হাওরভুক্ত ১১টি উপজেলায় আগামী ১২ তারিখ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। যেখানে ৮২টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টর থাকলে দ্রুত ধান কাটা শেষ করা যাবে। একইভাবে নেত্রকোনার ৬টি উপজেলায় ১ হাজারের বেশি হার্ভেস্টর প্রয়োজন। এখানে ধান কাটা শুরু হবে আগামী ১০ তারিখ থেকে। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৫টি উপজেলার ধান কাটতে ৪০২টি, সিলেটের ১৩টি উপজেলার জন্য ৩০০টি, মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার জন্য ১৬৪টি, হবিগঞ্জের ১১টি উপজেলার জন্য ৪৩২টি এবং সুনামগঞ্জের ৯টি উপজেলার জন্য ৫৭৭টি হার্ভেস্টর প্রয়োজন বলে সভায় তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, প্রতিটি হার্ভেস্টরে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ হেক্টর জমির ধান কাটা যায়।
