চাপে অর্থনীতি, ফরেন চেম্বারের উদ্বেগ

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ এএম

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি চাপে রয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) নেতারা। সংগঠনটি বলছে, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলার সংকট ও মূল্যস্ফীতি বাড়ায় বিভিন্ন খাতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা রয়েছে।

এ অবস্থায় টেকসই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকারকে সহায়তামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি কর প্রদানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডি (ন্যায়সঙ্গত বা সমান সুযোগের পরিবেশ) নিশ্চিত করার প্রস্তাবও করেছে সংগঠনটি। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আলোচনায় এফআইসিসিআই সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী ছাড়াও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

বক্তব্যে রুপালী হক চৌধুরী বলেন, কোভিড থেকে আমাদের ডাউনফল শুরু হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলারের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আমাদের সেক্টর ডিক্লাইন করেছে। বিভিন্ন খাত নেতিবাচক গ্রোথে আছে। আমাদের সহায়তা করলে ব্যবসাটা করতে পারব। ক্রাইসিস বেড়ে গেলে কনজ্যুমার মার্কেট কমে যাবে।

‘আমরাই শুধু না, সব সেক্টরে এই জিনিসটা হচ্ছে। আমি অনেকগুলো বোর্ডে আছি। কোনো কোনো সেক্টরে একেকটা কোম্পানি নেগেটিভ ২০ শতাংশ গ্রোথ হয়েছে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। আমাদের কর্মসংস্থান তৈরি ও রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ব্যালেন্স তৈরি করতে হবে, যারা কর দেয় তাদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হলে তারা দুর্বল হয়ে পড়বে’ যোগ করেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার ওপর কর বাড়ানোর চাপ আছে। কিন্তু যখন ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো করছে না, তখন আপনি কর বাড়াবেন কী করে। কেউ ভালো করছে না। করের জাল বাড়াতে গেলেও আপনার সময় লাগবে।  ব্যবসায়ীদের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু লোক অন্যায় করবে, আর বলা হবে ‘ব্যবসায়ী মাত্রই চোর’ এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

আলোচনায় এফআইসিসিআই ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) একাধিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, গাড়ির ফিটনেসে করতে গেলে বিআরটিএ যেন টিআইন ও পিএসআর নেয়। এ ছাড়া কর প্রদানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান।

আলোচনায় ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আগামী বছর থেকে হাতে রিটার্ন নেব না। সফটওয়্যারজনিত সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, আগামী বছর থেকে করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন পুরোপুরি অনলাইনে চলে আসবে। আশা করি, ট্যাক্স অফিসের সঙ্গে যে সমস্যাগুলো হয় সেগুলো অনেক কমে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের অডিট সিলেকশন প্রসেস আমরা অটোমেটেড করেছি। বিশেষ করে ইন্ডিভিজুয়ালটা যেহেতু আগে অনলাইন রিটার্নে আসবে তারপর আমরা সেটাও সিলেকশন মেথডট করব। আমরা চেষ্টা করব আপনারা যেগুলো বলবেন সেই অনুযায়ী সমস্যাগুলো সমাধান করার। আর বিশেষ করে ট্যাক্স হারের ক্ষেত্রে কমানো খুবই ডিফিকাল্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত