অস্তিত্ব সংকটে বেলতলী খাল

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭ এএম

ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে পুরো খাল, দেখে বোঝার উপায় নেই একসময় খালের এই অংশেই খনন কাজ হয়েছিল। শুধু ময়লা-আবর্জনা নয়, খালের ওপর যে যার মতো গড়েছেন বসতি। মাটি ফেলে ভরাট করেছেন পুরো খাল। গত ৮ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার বেলতলী খাল। জলবদ্ধতা নিরসনে ২০১৮ সালের শেষে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের পৌর শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান বেলতলি খালটি পুনঃখনন কাজ শুরু হয়। পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধুপাড়ার বেলতলি থেকে শুরু হয়ে ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে খাল ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস হাসান এন্টারপ্রাইজ ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর খনন শুরু করে। মাত্র আধা কিলোমিটার খনন কাজ শেষ না হতেই ১৩ দিনের মাথায় দখলদারদের বাধায় বন্ধ হয় কাজ। এরপর থেকেই ঝুলে আছে খালের খনন কাজ।

স্থানীয়দের মতে, এই খাল দিয়ে ছয়টি ওয়ার্ডের বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতো। তবে ময়লা আবর্জনা ও ভরাটের কারণে পুরোপুরি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বেলতলী খাল।  

এদিকে সাড়ে চার কিলোমিটারের অধিক দীর্ঘ খালের কিছু অংশ খনন হয়েছে পৌরসভার এক অংশে। ফলে কৃষকরা এই অংশে খালের পানি ব্যবহার করে আশপাশের বিভিন্ন কৃষিজমি সেচের আওতায় এনেছেন। খালটি পুরোপুরি খনন হলে  জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষিতেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন এলাকার কৃষকরা।

সাধুপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ‘২০১৮ সালের শেষের দিকে খালটি উদ্বোধন হলেও স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারীর জন্য পুরোপুরি খনন হয়নি। আলিয়া মাদ্রাসার পেছনে কালভার্টের অংশ থেকে বেশ কিছু অংশ মুক্তিযোদ্ধার নাম দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসেম বলেন, হাসপাতালের পেছনে গেলে দেখবেন বড় বড় বিল্ডিং এখন এই খালের ওপর। স্থানীয় এক ব্যক্তি, যিনি কি না আওয়ামী লীগ আমলেও প্রভাবশালী ছিলেন, এখনো তিনি বিএনপির নাম ব্যবহার করে খাল দখল করছেন এবং মাটি ফেলছেন। ২০২২ সালের পাহাড়ি ঢলে দুর্গাপুর পৌরসভার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সবকিছুই প্লাবিত হয়েছিল। যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকত, তবে পাহাড়ি ঢলের পানি বাজারে তেমন একটা উঠত না।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, ‘দুর্গাপুরে যে খালগুলো রয়েছে সেগুলোর তালিকা আমরা ইতিমধ্যে তৈরি করেছি। এর মধ্যে পৌরসভার ভেতরের দুটি খাল অতি গুরুত্বপূর্ণ। বেলতলী বা দেবতলী খাল জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা দ্রুতই এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চাই।’

ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধুমাত্র নদী নয়, খাল খননেরও উদ্যোগ নিচ্ছি আমরা। আমাদের এই অঞ্চলে অনেকগুলো খাল ছিল, যার অধিকাংশই এখন বেদখল হয়েছে। আমরা সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত