অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এডওয়ার্ড মারফি জুনিয়রের সেই বিখ্যাত উক্তি— ‘যদি ভুল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে, তবে তা হবেই’—বর্তমানে ইতালীয় ফুটবলের জন্য এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু হতে পারে না। টানা তৃতীয়বারের মতো ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়া কেবল একটি হার নয়, বরং এটি ইতালীয় ফুটবল কাঠামোর জন্য এক বিশাল চপেটাঘাত। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময় পার করছে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গের পর ইতালিজুড়ে এখন কেবলই হাহাকার। ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন কোচ জেন্নারো গাত্তুসো। তার বিদায়ের পর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, নাপোলিতে দারুণ সফল আন্তোনিও কন্তে আবারও ফিরতে পারেন জাতীয় দলের ডাগআউটে। এ ছাড়া মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি এবং পেপ গার্দিওলার মতো বড় নামগুলো নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এদিকে ২০৩২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ইতালি ও তুরস্ক। কিন্তু মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি পরিকাঠামো বা ইনফ্রাস্ট্রাকচারেও তুরস্কের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে আছে ইতালি। যেখানে তুরস্ক ইতোমধ্যে ভোডাফোন পার্ক বা আলি সামি ইয়েন-এর মতো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম গড়ে তুলেছে, সেখানে ইতালির অবস্থা শোচনীয়। একমাত্র জুভেন্টাসের অ্যালিয়ানজ স্টেডিয়াম ছাড়া আর কোনো ভেন্যুই বর্তমান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না।
এসি মিলান, ইন্টার মিলান কিংবা রোমা—সবার নতুন স্টেডিয়ামের পরিকল্পনা এখনো কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফেরিন ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে, স্টেডিয়ামের বেহাল দশা না কাটলে ২০৩২ ইউরো আয়োজনের অধিকার হারাতে পারে ইতালি।
মাঠের পারফরম্যান্স আর অবকাঠামোর এই দ্বিমুখী সংকট ইতালীয় ফুটবলের ঐতিহ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে। এক সময় যাদের ‘ম্যাজিকাল নাইটস’ বিশ্ব শাসন করত, তারা এখন কেবল নিজেদের হারানো গৌরব হাতড়ে ফিরছে। আগামী প্রজন্মের ইতালীয় সমর্থকদের জন্য এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে, যারা হয়তো টানা তিন বিশ্বকাপে নিজেদের দেশকে দেখার সুযোগই পেল না!
