এক দশকে দ্বিগুণ উদ্যোক্তা বেশিরভাগ সংকটে

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনাকারী ইউনিটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময়ে অর্থনৈতিক ইউনিট (প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগ) প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫ শতাংশ।  বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৭ লাখের বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪-এর ফলাফলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে মতামত দেওয়া প্রায় ৮৬ শতাংশ উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ব্যবসা পরিচালনায় তাদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো মূলধনের অভাব।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে এ শুমারির ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিক।

অর্থনৈতিক ইউনিট বলতে এমন কোনো স্থান বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেখানে পণ্য উৎপাদন বা সেবা প্রদানের মাধ্যমে আয় বা কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক সত্তা স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে কোনো অর্থনৈতিক কর্মকা- বা ব্যবসা পরিচালনা করে। এসব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে ৩ কোটির বেশি মানুষ কাজ করছেন।

পরিসংখ্যানের ‘কল্পিত বাস্তবতা’ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি বলেন, ‘বিগত সরকার পরিসংখ্যান নিয়ে একটি কল্পিত বাস্তবতা তৈরি করে প্রকৃত চিত্র ঢেকে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তথ্য যতই অস্বস্তিকর হোক, পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের জন্য সত্যকে গ্রহণ করতে হবে। তথ্য গোপন করে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, তথ্যের স্বচ্ছতায় পরিসংখ্যান ও বাস্তবতার ফারাক দূর করে নির্ভরযোগ্য তথ্যভা-ার গড়ে তুলতে হবে।

তথ্য সংগ্রহের দুই বছর পরে শুমারি জরিপ প্রকাশ নিয়ে অনুযোগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের তথ্য ২৬ সালে এসে জানানোয় সময়ের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। তথ্যের এই ব্যবধান কমাতে ১০ বছরের বদলে আরও কম সময়ে শুমারি জরিপ পরিচালনা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শুমারি জরিপ তুলে ধরেন বিবিএসের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। শুমারি অনুসারে, ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। অর্থাৎ গত এক দশকে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। দেশে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ইউনিট হলো খুচরা ও পাইকারি খাতে। এই খাতেই মোট অর্থনৈতিক ইউনিট প্রায় ৪৯ লাখ। এরপরের দুটি স্থানে আছে যথাক্রমে পরিবহন খাত এবং অন্যান্য সেবা খাত।

জরিপের এই তথ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এদের সুরক্ষা দেওয়া সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে। আমাদের কেবল রপ্তানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প নিবন্ধনের জটিলতা কমিয়ে উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মালিকানার ভিত্তিতে দেখা যায়, দেশের ৮৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

এদিকে জরিপে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক ইউনিটে কাজ করছেন ১৪ হাজার ৬৬৪ বিদেশি নাগরিক। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী মোট বিদেশি জনবলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাগরিক চীনের। এর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯১, যা মোট বিদেশি কর্মীর ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ। এ ছাড়া রুশ নাগরিক ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ভারতীয় ১৩ দশমিক ০১ শতাংশ, কাজাখস্তানের ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিদেশি নাগরিক কর্মরত সেগুলোর ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ কাজ করেন প্রশাসন বা হিসাব শাখায়। এ ছাড়া ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বা প্রকৌশল শাখায়, ১৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন শাখায় এবং ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিপণন শাখায় কর্মরত বিদেশিরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত