তেতইগাঁও মাতল মণিপুরী লাই হারাওবা উৎসবে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তেতইগাঁওয়ের মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হল মণিপুরী সম্প্রদায়ের প্রাচীন ঐতিহ্যের উৎসব লাই হারাওবা। গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের শেষ দিন ছিল শুক্রবার (১০ এপ্রিল)।

শুক্রবার দিনব্যাপী ঢোল-খোল, বাঁশি, পেনাসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর হয়ে ওঠে প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা নামতেই উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় নৃত্য পরিবেশনা। নারী, কিশোরী ও শিশুদের অংশগ্রহণে মঞ্চ যেন জলতরঙ্গের মতো দুলে ওঠে। সুর, তাল ও মুদ্রার মূর্ছনায় সন্ধ্যা ডুবে যায় এক স্নিগ্ধ, প্রার্থনাময় আবহে।

বিকেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের তেতইগাঁওয়ে অবস্থিত মণিপুরি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ভিড় জমে। তিন দিনের এই উৎসবের শুরু থেকে চলে নানা আচার-অনুষ্ঠান। উৎসবের অর্থায়ন করেছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাস্তবায়নে ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

তিন দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন ছিল শুক্রবার, শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশ। ছবি: প্রতিনিধি

উৎসব প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই মণিপুরি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ জমে উঠে সংস্কৃতিক আয়োজনে। আচার-অনুষ্ঠান, নাচে অংশ নিতে কুশীলবেরাও সক্রিয়, সচল হয়ে ওঠেন। ঢোল-খোল, বাঁশিসহ নানা বাদ্যযন্ত্রের সুর বেজে ওঠে, প্রাঙ্গণজুড়ে চলতে থাকে সুরের ঝংকার। উন্মুক্ত মঞ্চে  ক্রমে নারী, তরুণী ও শিশু-কিশোরীরা নৃত্য পরিবেশন করে। গান ও সুরের তালে, নানা মুদ্রায় দীর্ঘ সময় ধরে নাচ চলতে থাকে। একটা সময় অনেকজনের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত মঞ্চটি জলতরঙ্গের মতো দুলতে থাকে, ভাসতে থাকে। একদিকে খোলা হাওয়া, অন্যদিকে গান ও সুরের মূর্ছনায় সবাইকে স্নিগ্ধ মুগ্ধতায় ডুবিয়ে রাখে।

আয়োজকরা জানান, লাই হারাওবা মণিপুরি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র উৎসব। লাই অর্থ দেবতা, হারাওবা আনন্দ, অর্থাৎ দেবতাদের আনন্দোৎসব। এর কেন্দ্রবিন্দু ‘লাই হারাওবা জগোই’, যা মণিপুরি নৃত্যের আদিরূপ হিসেবে বিবেচিত। এই নৃত্যের মাধ্যমে মাইবি (নারী পুরোহিত) দেবতাদের সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি ও মানবজীবনের নানা পর্যায় তুলে ধরেন।

ছবি: প্রতিনিধি

লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব ওইমান লানথই বলেন, এটি মণিপুরী জনগোষ্ঠীর এক জীবন্ত ঐতিহ্য, যা প্রাচীন মেইতেই সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং প্রকৃতি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে ধারণ করে।

কমিটির আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা শ্যামল বলেন, মাইবিদের নৃত্য এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যার মাধ্যমে পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা, আধ্যাত্মিক চর্চা ও নতুন প্রজন্মের কাছে সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়। ইউনেসকো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহায়তায় আয়োজিত এই উৎসব শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত