কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দরবারে হামলা ও ‘পীর’ শামীম রেজা জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় ৪ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হলেন— দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন খাজা আহম্মেদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মাদরাসা শিক্ষক সাফি। তাদের নেতৃত্বে আরও অজ্ঞাত প্রায় ২০০ জন হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, মামলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, দলটির কোনো নেতাকর্মী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাদের জড়ানো হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে, খেলাফত মজলিসের নেতা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, পুরোনো একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে হামলায় উসকানি দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইডি ও পেজের অ্যাডমিনদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিওর ভিত্তিতে হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে একদল লোক হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় দরবারের পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরদিন রবিবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রথমদিকে হামলাকারীদের ভয়ে নিহতের পরিবার মামলা করতে দ্বিধায় থাকলেও পরে পুলিশের তাগিদে নিহতের বড় ভাই মামলার বাদী হন।
হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন মনজুর আলম