তাবেয়ির সঙ্গে উমাইয়া খলিফার শিক্ষণীয় ঘটনা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ এএম

উমাইয়া খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিক ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, ভদ্র, সজ্জন, সাহসী, সৎ ও পরহেজগার। ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করেও তার চরিত্রে ছিল বিনয়, সংযম ও আল্লাহভীতি। তিনি আন্তরিকভাবে কামনা করতেন যে, ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তিনি হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন। তার স্বভাব-চরিত্র ছিল ধৈর্য, সহনশীলতা ও সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ।

হিশাম ইবনে আবদুল মালিক আলেম-ওলামাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি তাদের সান্নিধ্যে থাকতে পছন্দ করতেন এবং তাদের পরামর্শকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করতেন। প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম ইবনে শিহাব জুহরি (রহ.) ছিলেন তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা। দ্বীনের জ্ঞানী ব্যক্তিদের খেদমত করাকে তিনি নিজের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় মনে করতেন এবং এতে তিনি আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করতেন।

একবার মক্কা মোকাররমার পবিত্র মসজিদে হারামে তার সাক্ষাৎ হয় প্রখ্যাত তাবেয়ি হজরত সালেম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রহ.)-এর সঙ্গে। এই মহান ব্যক্তি ছিলেন সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর সুযোগ্য সন্তান, যিনি ইলম, আমল ও তাকওয়ায় ছিলেন অনন্য।

সাক্ষাতের সময় খলিফা হিশাম অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাকে বললেন, ‘আপনার যদি কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে আমাকে বলুন, আমি তা পূরণ করার চেষ্টা করব।’

এ কথা শুনে হজরত সালেম (রহ.) গভীর আত্মমর্যাদা ও আল্লাহভীতির পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি আল্লাহর ঘরে দাঁড়িয়ে অন্য কারও কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে লজ্জাবোধ করছি।’

পরবর্তী সময় যখন তিনি ইবাদত-বন্দেগি শেষ করে মসজিদ থেকে বের হলেন, তখন খলিফা হিশাম তার পেছনে পেছনে বেরিয়ে এলেন। বাইরে এসে আবার বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘এখন তো আপনি মসজিদের বাইরে আছেন। সুতরাং যদি কোনো প্রয়োজন থাকে, অনুগ্রহ করে বলুন।’

তখন হজরত সালেম (রহ.) বললেন, ‘আপনি কী চান, আমি দুনিয়ার প্রয়োজনের কথা বলি, না আখেরাতের?’ খলিফা হিশাম বললেন, ‘দুনিয়ার প্রয়োজনের কথাই বলুন।’

এবার হজরত সালেম (রহ.) এমন এক উত্তর দিলেন, যা তার গভীর ইমান ও তাওয়াক্কুলের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বললেন, ‘আমি দুনিয়ার কোনো কিছু সেই সত্তার কাছেও চাই না, যিনি আমার প্রকৃত মালিক। সুতরাং আমি এমন একজনের কাছে কীভাবে চাইতে পারি, যিনি কোনো কিছুর মালিকই নন! (আল মুনতাজিম ৭/১১৪)

এই ঘটনায় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। অনেক সময় আমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি, দুনিয়ার সামান্য কিছু অর্জনের জন্য কত কিছু করে থাকি। অথচ তা না থাকলে দুনিয়ার জীবনে আমাদের কি বা ক্ষতি হতো? আমাদের জীবনের সব লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত আখেরাত কেন্দ্রিক। আখেরাতে আমাদের কী কী বিপদের সম্মুখীন হতে হবে, তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং আখেরাতের জীবনকে সুন্দর করার জন্য কাজ করা জরুরি। মহান আল্লাহ এসব মনীষীদের জীবনী থেকে আমাদের শিক্ষা অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, দিলু রোড মাদ্রাসা

নিউ ইস্কাটন, ঢাকা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত