ভারতের কূটনৈতিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশে দেশটির হাইকমিশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। এ কারণে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে কাকে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশেই নাগরিকদের মধ্যে কমবেশি আগ্রহ আছে। ভারত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫৪ বছরের চর্চায় ছেদ ঘটিয়ে এবার ঢাকায় হাইকমিশনের শীর্ষ পদটিতে একজন রাজনীতিককে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির অন্যতম প্রবীণ নেতা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী।
এনডিটিভি ও দ্য হিন্দুস্তান টাইমসসহ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমে গতকাল রবিবার বিকেলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে হাইকমিশনার ‘নিযুক্ত হয়েছেন’। বিজেপির এক নেতা অমিত মালভিয়া বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য গতকাল এক্স-পোস্টে দীনেশ ত্রিবেদীকে অভিনন্দন জানান।
তবে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের বিষয়ে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত ভারত সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি। কূটনৈতিক মিশনে সর্বোচ্চ পদে নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে যে দেশে মিশনটি অবস্থিত, নিয়োগের জন্য বিবেচনাধীন ব্যক্তির বিষয়ে সেখানকার সরকারের কাছ থেকে গোপনে আনুষ্ঠানিক সম্মতি চাওয়া হয়ে থাকে, যা কূটনৈতিক পরিভাষায় ‘এগ্রিমো’ হিসেবে পরিচিত।
জানতে চাওয়া হলে একজন কূটনীতিক দেশ রূপান্তরকে গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, তার জানামতে দীনেশ ত্রিবেদীর জন্য ‘এগ্রিমো’ চাওয়া হয়নি। অবশ্য অন্য একজন কূটনীতিকের তথ্য অনুযায়ী, হাইকমিশনার হিসেবে ত্রিবেদীর নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘জানানো হয়েছে’।
ভারত ঢাকায় হাইকমিশনের শীর্ষ পদটিতে গত ৫৪ বছর ধরে একজন অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিককে নিয়োগ দিয়ে আসছে। বর্তমান হাইকমিশনার পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মাকে ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলির বিষয়টি সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুদেশের সম্পর্কের টানাপড়েন সামাল দেওয়ার দিকটি বিবেচনায় রেখে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার ঢাকায় হাইকমিশনের শীর্ষপদে দলের একজন প্রবীণ নেতাকে নিয়োগ দিতে পারেন, এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। গত মার্চের শুরুতে প্রথমে আলোচনায় আসে বিহারের সাবেক রাজ্যপাল ও প্রবীণ বিজেপি নেতা আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম। এবার আলোচনায় এলেন দীনেশ ত্রিবেদী।
কে এই দীনেশ ত্রিবেদী?
প্রায় ৭৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিক বিভিন্ন সময় ভারতের রাজ্যসভা ও লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। এক সময় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন। মনমোহন সিং-এর মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদী তিস্তার পানি ভাগাভাগির বিষয়ে একটি অস্থায়ী চুক্তি করার বিষয়টি তৎকালীন মন্ত্রিসভা কমিটিতে আলোচনায় এলে ত্রিবেদী এ চুক্তির বিরোধিতা করেন।
ত্রিবেদী পরে জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তিনি ভালো বাংলা জানেন।
