এলপিজির দাম আর কত বাড়বে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

মাসের শুরুতে একদফা বৃদ্ধির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ানো হলো বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। আগের দফায় ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২৮ টাকা। অর্থাৎ, এক মাসেই দাম বাড়াল প্রায় ৬০০ টাকা। একই হারে বেড়েছে অন্যান্য ওজনের এলপি গ্যাসের মূল্য। গতকাল রবিবার এই মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রক কমিশন (বিইআরসি)।

বিশ^বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে একবার করে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হলেও এবার দুই বার দাম বাড়ানো হলো। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেল অনেক। প্রশ্ন উঠেছে এলপিজির দাম আর কত বাড়বে?

বেসরকারি খাতে দাম বাড়লেও সরকারি এলপিজির মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ডিলার পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম রয়েছে ৭৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে ॥এর সরবরাহ সীমিত হওয়ায় অধিকাংশ ভোক্তাকে বেসরকারি বাজারের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।

এপ্রিলের শুরুতেই প্রতি কেজি এলপিজির দাম ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। তার পরপরই আবারও প্রতি কেজিতে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসের খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

শহরের অনেক পরিবার এখন বলছে, রান্নার গ্যাসের বিলই মাসিক খরচের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। বিশেষ করে যাদের বিকল্প কোনো জ্বালানি নেই, তাদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

দাম বাড়ার পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকেই প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে বিইআরসি। কমিশন বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট, ওই অঞ্চলে এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বিকল্প পথে এলপিজি আনতে হওয়ায় সময় ও জ্বালানি খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বীমা ও নিরাপত্তা খরচও বেড়েছে। এসব মিলিয়ে প্রতি মেট্রিক টনে পরিবহন ও ট্রেডার প্রিমিয়াম বাড়িয়ে ২৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দামও ঊর্ধ্বমুখী, যা সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে।

নতুন হিসাবে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা। ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৪০ টাকা।

বড় সিলিন্ডারগুলোর দামও একই হারে বেড়েছে। ১৫ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ১৬১ টাকা থেকে ২ হাজার ৪২৫ টাকা, ১৬ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৩০৫ টাকা থেকে ২ হাজার ৫৮৭ টাকা, ১৮ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৫৯৩ টাকা থেকে ২ হাজার ৯১০ টাকা এবং ২০ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ৮৮১ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৩৩ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২২ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ১৬৯ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার ৬০১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৪২ টাকা, ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৩২১ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮৫০ টাকা, ৩৩ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩৩৫ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার ৪ হাজার ৭৫৩ টাকা থেকে ৫ হাজার ৬৫৮ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ৬ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ হাজার ২৭৫ টাকা।

রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দামও বেড়েছে। তরল অবস্থায় প্রতি কেজির দাম ১৪০ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৭ টাকা ৯১ পয়সা করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় প্রতি ঘনমিটারের দাম ৩১১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৫১ টাকা হয়েছে। আর যানবাহনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।

বিইআরসি জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের বেশি কোনো পর্যায়ে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না। বোতলজাতকরণ কেন্দ্র থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা সবাইকে এই নির্দেশনা মানতে হবে।

যদিও বাজারে কখনই কমিশন নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা ভোক্তার কাছ থেকে ইচ্ছেমতো দাম আদায় করছেন। এ নিয়ে বারবার অভিযোগের পরও কোনো সুরাহা করতে পারেনি বিইআরসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত