সড়ক ও নৌপথে ভাড়া বাড়ছে

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সড়ক ও নৌপথে যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাস ও লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির আবেদন করেছেন মালিক সমিতির নেতারা। বাস মালিক সমিতির দেওয়া একটি খসড়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে গতকাল রবিবার রাতে ভাড়া নির্ধারণ কমিটি বৈঠক করেছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন (যাপ) সংস্থা।

পরিবহন মালিক সমিতির প্রস্তাব অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মহানগরীগুলোতে বাস ভাড়া ৬৪ শতাংশ বাড়ানোর আলাপ তোলা হবে। আর দূরপাল্লার বাসে ৩৭ শতাংশ ভাড়া বাড়াতে চান মালিকরা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটারের কম ও বেশি উভয় দূরত্বে কিলোপ্রতি ১ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধি না করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা : যিজ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, বাস মালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী নেতা সরকার-সমর্থিত প্রক্রিয়ায় ভাড়া বাড়ানোর ‘একচেটিয়া পাঁয়তারা’ করছে।

গতকাল রবিবার রাতে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গোপনে ভাড়া নির্ধারণসংক্রান্ত বৈঠকের খবর পেয়ে সংগঠনটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যমকে এড়িয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা জনস্বার্থবিরোধী। তিনি বলেন, অতীতে জ্বালানি তেলের দাম কমার সময় ভাড়া সামান্য হারে কমানো হলেও এবার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের পক্ষ থেকে প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমলাতন্ত্রকে প্রভাবিত করে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জন-অসন্তোষ বাড়বে। এ অবস্থায় বাস মালিকদের একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নৌপথে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব

৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গতকাল রবিবার অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় সংগঠনটি।

অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে (বিআইডব্লিওটিএ) পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে প্লেট, এল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ফুয়েলিং রড, গ্যাস, রঙ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে যাত্রাপথে অতিরিক্ত ২১ হাজার টাকার মতো খরচ বেড়েছে, বলছেন মালিকরা। মালিকদের সংস্থাটির মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে ৬ থেকে ৭ ব্যারেল ডিজেল প্রয়োজন হয়। প্রতি ব্যারেলে ২০০ লিটার ডিজেল থাকে। অর্থাৎ ১,৪০০ লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা করে বাড়তি ধরলে ব্যয় বেড়েছে ২১ হাজার টাকা। তাই যাত্রীদের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, যাত্রী ভাড়া ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে বর্তমান ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া সর্বনিম্ন যাত্রী ভাড়া ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা নির্ধারণের অনুরোধ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত