মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উপরন্তু ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চরম নাটকীয়তাও তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আজ রাতেই চুক্তি স্বাক্ষরের জোরালো দাবি জানালেও, প্রতিনিধি দলের রওনা দেওয়া নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দ্বিতীয় দফর শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প এমন দাবি করলেও বাস্তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন। তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে কোনো যাত্রা করেননি। এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত থাকায় ভ্যান্সের সফর স্থগিত রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি দলই এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি।
অন্যদিকে ইরানের একটি শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। আরেকটি মার্কিন সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এখনো রওনা না দিলেও শিগগিরই ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরান বর্তমানে পরবর্তী বৈঠকে বসার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানালেও মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইসলামাবাদে এখন প্রতিনিধি দলটির পৌঁছানোর অপেক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করতে কতটা আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিনিধি দলটি ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদের পথে রয়েছে। এমনকি ফক্স নিউজকেও ট্রাম্প বলেন, একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি আজ রাতেই স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন থেকে ইসলামাবাদের বিশাল ভৌগোলিক দূরত্ব এবং জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিরতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিলে আজ রাতে চুক্তি হওয়া প্রায় অসম্ভব। এদিকে একটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেননি। এমনকি মার্কিন প্রতিনিধি দলের কেউই এখনও পাকিস্তানের উদ্দেশে যাত্রা করেননি।
এর আগে গত রবিবার (১৯এপ্রিল) ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করেও ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। সেই সময় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছিল দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। বিপরীতে, ইরানের দাবি ছিল যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
